ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবি

মুঠোফোনে পারভেজের কণ্ঠই স্বজনদের শেষ স্মৃতি

বিজ্ঞাপন
default-image

গত বৃহস্পতিবার মা-কে শেষবারের মতো ফোন দিয়েছিলেন পারভেজ মৃধা। বলেছিলেন, ‘চিন্তা কইরো না, দোয়া কইরো। কালকে ট্রলার ছাড়ব, আমি পৌঁছাইয়া তোমারে ফোন দিমু।’ কিন্তু এরপর আর ফোন দেননি পারভেজ। পারভেজ বেঁচে আছেন না মারা গেছেন, সেটিও জানেন না তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের কাছে মুঠোফোনের ওই কণ্ঠই তাই এখন পারভেজের শেষ স্মৃতি।

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে গত বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিহত লোকজনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সেই তালিকায় নাম রয়েছে পারভেজ নামের এক যুবকের। কিন্তু এই পারভেজই তাঁর ছেলে কি না, সে ব্যাপারে কিছুই জানেন না পারভিন আক্তার। ছেলের সঙ্গে শেষবারের মতো বলা কথার অডিও রেকর্ডই তাই এখন তাঁর একমাত্র ভরসা।

পারভেজের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভূমখারা ইউনিয়নের চাকধ গ্রামে। আজ বুধবার পারভেজের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের সঙ্গে বলা সর্বশেষ কথার অডিও রেকর্ড শুনতে শুনতে বিলাপ করছেন পারভিন আক্তার। বাড়িভর্তি লোকজন, কিন্তু কেউ কাউকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। পারভেজের বাবা মোর্শেদ মৃধা বললেন, তিনি কৃষিকাজ করে সংসার চালান। সংসারের আয় বাড়াতে বড় ছেলে পারভেজ বিদেশ যেতে চাইলে কৃষিজমি বিক্রি করে তাঁকে লিবিয়া পাঠান। কিন্তু ছেলের আর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না তাঁরা। ছেলে জীবিত না থাকলেও অন্তত তাঁর লাশটা পাওয়ার আশায় এখন বুক বেঁধে আছে পারভেজের পরিবার।

পারভেজের পরিবারের মতো উৎকণ্ঠায় আছে শরীয়তপুরের আরও ৮টি পরিবার। প্রিয়জন বেঁচে আছেন না মারা গেছেন, সে বিষয়ে এখনো কিছুই জানতে পারেননি তাঁরা। নিখোঁজ থাকা উত্তম দাসের মা কবিতা দাস বললেন, ‘ছেলে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, কিছুই জানতে পারিনি। আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই, একবার তাঁর মুখ দেখতে চাই।’

জানতে চাইলে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, ‘তিউনিসিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবিতে যাঁরা নিখোঁজ ও উদ্ধার হয়েছেন তাঁদের ব্যাপারে খোঁজ রাখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শরীয়তপুরের যাঁরা নিখোঁজ রয়েছেন তাঁদের বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তথ্য পেলে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন