মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় করোনা পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ আসার দুদিনেও এক রোগীকে চিহ্নিত করতে পারেনি প্রশাসন। এ কারণে আজ শনিবার পর্যন্ত ওই ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়নি। তাঁর বাড়িও অবরুদ্ধ (লকডাউন) করতে পারেনি প্রশাসন।

শুধু ওই ব্যক্তি নন, বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে গত এক মাসে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও অন্তত সাতজনকে খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয় প্রশাসনকে। এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিতে ও তাঁর বাড়ি লকডাউন করতে সময় লেগে যায়। অনেকে নমুনা দিয়ে এলেও বাসায় কোয়ারেন্টিনে না থেকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। এতে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যক্তির করোনা পজিটিভ আসে। নমুনা দিতে গিয়ে ওই ব্যক্তি মুঠোফোন নম্বর দিয়ে ঠিকানায় শুধু সীতাকুণ্ড উল্লেখ করেন। এখন তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে পাঁচজনকে একদিন পর ও দুজনকে দুদিন পর খুঁজে পান তাঁরা। এঁদের প্রত্যেকের তথ্যে বিভ্রান্তি থাকায় প্রশাসনকে বেগ পেতে হয়। কারও মুঠোফোন বন্ধ ছিল, আবার কেউ কেউ ফোন ধরেন না। অনেক সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অনেকের বাড়ি লকডাউন করতে গিয়ে জানা যায়, নমুনা দেওয়ার পরও তাঁরা ঘরে থাকেননি। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। ফলে অনেক মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হচ্ছে।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক সুমন বণিক বলেন, এক ব্যক্তি থাকেন চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায়। কিন্তু ঠিকানায় দিয়েছিলেন বাড়ি সীতাকুণ্ডের শীতলপুরে। তাঁর মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অনেকভাবে খোঁজ করে পুলিশ তাঁর সন্ধান পায়। এবারও একজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায় বলেন, করোনা পরীক্ষার জন্য অনেকে নমুনা দিয়ে আসেন। পরে পজিটিভ আসার পর বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। গত সোমবার সৈয়দপুর ইউনিয়নের করোনা সংক্রমিত এক তরুণী আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টিই অস্বীকার করেন। পরে একেকবার একেক ঠিকানা দিচ্ছিলেন। কখনো বলেন, বাড়ি কুমিল্লা, আবার কখনো সৈয়দপুরে। একদিন পর তিনি স্বীকার করেন। নমুনা দিতে গিয়ে যেন পুরো ঠিকানা ও সঠিক মোবাইল নম্বর নেওয়া হয়, সে জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন