default-image

কারাবন্দী অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘কারাগারে কোনো মৃত্যু অবশ্যই অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত। মুশতাক আহমেদের মৃত্যুটাও অনভিপ্রেত। আমি নিজেও ব্যথিত। কিন্তু এটি নিয়ে যেভাবে মাঠ গরম করার অপচেষ্টা হচ্ছে, সেটি আরও অনভিপ্রেত।’

বরেণ্য চলচ্চিত্র অভিনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ টি এম শামসুজ্জামানের মৃত্যুতে স্মরণসভায় এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।  আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন হলে এ অনুষ্ঠান হয়। এর আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট। প্রয়াত এ টি এম শামসুজ্জামান বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ছিলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান আজকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।

 মুশতাক আহমেদের মৃত্যু নিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে, কমিটির রিপোর্টে বেরিয়ে আসবে তাঁর মৃত্যু কি স্বাভাবিক ছিল, নাকি কারা কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল, বা অন্য কোনো কারণ ছিল। সেগুলো বেরিয়ে এলে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবে কেউ কেউ ওই আইন বাতিল করতে হবে বলছেন, তা অমূলক।  কারণ আইন সবার জন্য।’ তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সমগ্র মানুষের নিরাপত্তার জন্য। সাংবাদিক, গৃহিণী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ সবাইকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য।’

বিজ্ঞাপন

আজকের অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কাগজে দেখলাম মির্জা ফখরুল সাহেব সম্প্রতি বলেছেন, ৫০ বছরে আমরা শুধু দলাদলি করেছি, দেশ আগায়নি। আমি তাঁকে বলব, আপনি ঢাকা কলেজে পড়াতেন, আপনি একজন শিক্ষিত মানুষ, যদিও-বা অহরহ বিএনপির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে প্রচণ্ড অসত্য কথা বলতে হয়, কিন্তু আপনি একজন মার্জিত মানুষও বটে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যে দেশ এত দূর এগিয়ে গেছে, ভারত-পাকিস্তানসহ সারা বিশ্ব সেটি অনুধাবন করেছে আর আপনি সেটি অনুধাবন করতে পারলেন না! জাতিসংঘ সার্টিফিকেট দিয়েছে যে দেশ স্বল্পোন্নত থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে। খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশ হয়েছে। ২০০৮ সালের ৬০০ ডলার মাথাপিছু আয় এখন ২০৬৯ ডলারে উন্নীত, যা ভারত ও পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় থেকে অনেক বেশি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা পাকিস্তানের তিনগুণ, এই তথ্যগুলো আপনাদের কাছে নেই দেখে আমি খুব অবাক হচ্ছি।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আসলে বিষয়টা হচ্ছে, বিএনপি যদি দলাদলি আর নেতিবাচক রাজনীতি না করত, বাংলাদেশ যে আজকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, তার চেয়েও অনেক বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারত।’

হাছান বলেন, ‘এই নেতিবাচক রাজনীতি যদি না থাকত, জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া, স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রশ্রয় দেওয়া, তাদের সঙ্গে বসে রাজনীতি করা না হতো, তাহলে দেশ আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে পারত। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের সেই কথাটি বলা উচিত ছিল।’

অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান প্রয়াত এ টি এম শামসুজ্জামানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

আজকের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু সংস্কৃতি জোটের উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন দাস। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার। বক্তব্য দেন জোটের সহসভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, আওয়ামী লীগের নেতা বলরাম পোদ্দার, আওয়ামী লীগের নেতা এম এ করিম, সংগঠনের সদস্য অভিনেত্রী তারিন, শাহনুর, কণ্ঠশিল্পী এস ডি রুবেল, অভিনেতা শাকিল খান, এ টি এম শামসুজ্জামানের কন্যা কোয়েল আহমেদ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন