আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা ও এস এম বকস কল্লোল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ বলেন, তরিকুলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছিল। ১৪ বছর ধরে কনডেমড সেলে থাকার দিক বিবেচনায় তাঁর দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন আপিল বিভাগ। অপর দুজন ১৪ বছর ধরে কনডেমড সেলে আছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য না থাকায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোনাদ্দির আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ১৬ বছর ধরে তিন আসামিই কারাগারে আছেন। এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকায় তাঁর সাজা মৃত্যদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর দুজনের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর শবে কদরের রাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ধুয়াপাড়া যৌবন গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মো. বজলুর রহমানের স্ত্রী মিলিয়ারা খাতুন ওরফে রোকসানা ওরফে মিলু (৩০) ও তাঁর মেয়ে পারভীন ওরফে সাবনুরকে (৯) গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন মিলুর বাবা থানায় মামলা করেন। মিলুর মাথা গোয়ালঘরে ও সাবনুরের মাথা বাথরুমে পাওয়া যায়। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় দেন। রায়ে ওই তিনজনসহ চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সেই থেকে তিন আসামি কনডেমড সেলে আছেন।

আসামিদের মৃত্যদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে আসে, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। অন্যদিকে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে চারজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। কারাগারে থাকা তিন আসামি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আপিল ও জেল আপিল করেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি মো. মোক্তার পলাতক থাকায় আপিল করেননি। কারাগারে থাকা তিনজনের আপিলের ওপর শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার রায় দেন আপিল বিভাগ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন