জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে। কামারুজ্জামানকে সেই পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, পুনর্বিবেচনার আবেদন করার জন্য আসামির (কামারুজ্জামান) হাতে ১৫ দিন সময় আছে। গতকাল থেকে এ দিন গণনা শুরু হয়েছে। আসামিপক্ষ বলেছে, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর তারা পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গত বুধবার রাতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-২-এর তিন বিচারপতি কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করেন। পরে তা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্র জানায়, মৃত্যু পরোয়ানার অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
বেলা দেড়টার দিকে লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানা বাহক মারফত পৌঁছায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. ফরমান আলী জানান, তাঁরা কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা পেয়েছেন। আদেশে আদালত যে নির্দেশ দিয়েছেন, বিধিমোতাবেক সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কারাগারের কনডেম সেলে রাখা কামারুজ্জামানকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কামারুজ্জামান পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন কি না বা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন কি না, এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ করে তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার (গতকাল) থেকে ১৫ দিন গণনা শুরু হয়ে গেছে। এর মধ্যে আসামিকে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে হবে। কারণ, জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার রায়ে আপিল বিভাগ বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার বা আসামিকে জানানোর দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে, যেটি আগে হয়, পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে হবে। কামারুজ্জামান মৃত্যু পরোয়ানা জেনে গেছেন, এ জন্য বৃহস্পতিবার থেকে দিন গণনা শুরু হবে।
কামারুজ্জামানের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাঁরা পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপিল বিভাগের রায় কার্যকর করা যাবে না। রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপির জন্য আবেদন করা হলেও এখনো তাঁরা অনুলিপি পাননি।
মৃত্যু পরোয়ানা জারির বিষয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, প্রচলিত আইন অনুসারে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা ঠিক আছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে মৃত্যু পরোয়ানা কার্যকর করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0