ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মেঘনার ভাঙনে আটটি গ্রামের কয়েক হাজার একর ফসলি জমি ও বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক দশকে নদীতে দুটি গ্রামের প্রায় পুরোটাই বিলীন হয়ে গেছে।
শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর সীমান্তবর্তী শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নাছিরাবাদ, শাহবাজপুর ও মানিকনগর এবং সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাবাল্লা, মুক্তারামপুর, সাহেবনগর, ধরাভাঙ্গা ও শ্রীপুর গ্রামে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করে। এর মধ্যে সোনাবাল্লা ও ধরাভাঙ্গা গ্রাম দুটিতে এখন মাত্র ৫০-৬০টি পরিবার রয়েছে।
ধরাভাঙ্গা গ্রামের উত্তর প্রান্তে মেঘনা নদীর পাড়ে ১৯৯৬ সালে একটি ‘টি’ বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই বাঁধের পশ্চিম দিকের জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটির অর্ধেকের বেশি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানান সেখানকার বাসিন্দারা। গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনাবাল্লা গ্রাম নদীভাঙনে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। গ্রামের শেষ প্রান্তে ৫০-৬০টি পরিবার আছে। নদী পারাপারের জন্য একটি ঘাট রয়েছে।
নাছিরাবাদ গ্রামের দেবু দাস বলেন, গ্রামের উত্তর দিকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত নদীর ভেতরে বাড়ি-জমির সীমানা ছিল। কিন্তু নদীতে তা বিলীন হয়ে গেছে।
ধরাভাঙ্গা গ্রামের কৃষক খালেক মিয়া বলেন, ‘এমনে ভাঙতে থাকলে কয়েক বছর পর আরও অনেক জমিই নদীতে চইলা যাইব। এই গেরামে ৫০-৬০টা ঘর আছে, গেরামের অন্য মানুষেরা দূরে চইলা গেছে।’
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু শাহেদ চৌধুরী বলেন, ‘নবীনগরে মেঘনা নদীর ভাঙনের কথা আমার জানা নেই। নবীনগরের কোনো চেয়ারম্যান কিংবা কোনো ব্যাক্তি কখনো নদীভাঙনের বিষয়ে আমাকে কিছুই বলেননি।’ পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী এনায়েত করিম বলেন, উপজেলার মানিকনগর এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে তীরে ২ হাজার ৭৫ মিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে ২০১০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। তবে এখনো কোনো বরাদ্দ আসেনি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন