default-image

রাজধানীতে গতকাল বৃহস্পতিবার মাত্র ৩ ঘণ্টায় ১২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তাপ থেকে তৈরি মেঘ ও মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে থাকা মেঘ ও আর্দ্রতা মিলেমিশে রাজধানীর আকাশে স্তরীভূত মেঘ তৈরি হয়। বেলা একটার দিকে ওই মেঘ বিস্ফোরিত হয়ে রাজধানীর ওপরে নেমে আসে। আবহাওয়াবিদেরা একে বলেন ‘মেঘ বিস্ফোরণ’।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে প্রতি তিন ঘণ্টার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা শুরু হয়েছে ২০০৩ সাল থেকে। এই সময়ের মধ্যে তিন ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের ওপরে বৃষ্টিপাতের কোনো রেকর্ড নেই। গতকাল বেলা পৌনে একটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১২৩ মিলিমিটার, যা ১৫ বছরের মধ্যে রেকর্ড। বৃষ্টির এই আপদের সঙ্গে রাজধানীর খাল ও নালাগুলো ভরাট হওয়ার বিপদ যোগ হয়েছে। ফলে প্রায় পুরো শহরেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি জয়। রাত নয়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকা হাঁটুপানিতে ডুবে ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেঘ বিস্ফোরণ হলে অল্প সময়ে অনেক বৃষ্টি হয়ে থাকে। যদিও রাজধানীতে এর আগে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, কিন্তু তা ছিল সারা দিন ধরে হওয়া বৃষ্টি। আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে এত বৃষ্টিপাত এর আগে কোনো দিন আমাদের রেকর্ডে পাইনি।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০০৯ সালের ২৮ জুলাই ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তবে ওই বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ২৪ ঘণ্টায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ওই দুটি ঘটনাকেও মেঘ বিস্ফোরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
২১০০ সালে অসহনীয় তাপমাত্রা
বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্স দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক একটি পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে উত্তাপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এভাবে উত্তাপ বাড়তে থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ এ দেশগুলোর তামপাত্রা মানুষের সহনক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।
গবেষণাটিতে বলা হয়, তামপাত্রার সঙ্গে উচ্চ আর্দ্রতা যুক্ত হলে তা অসহনীয় হয়ে ওঠে। এটিকে বলে ওয়েট-বাল্ব টেম্পারেচার (ভেজা-বাতি তাপমাত্রা)। সাধারণত ওয়েট-বাল্ব টেম্পারেচার ৩৫ ডিগ্রি হলে তা মানুষের সহনক্ষমতা অতিক্রম করে যায়। গঙ্গা অববাহিকায় ২১০০ সালের মধ্যে এ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি অতিক্রম করে যাবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন