default-image

সাজসজ্জা শুরু হয়েছিল বিকেল থেকেই। রাজধানীর শাহবাগ এলাকার আশপাশের সড়কদ্বীপগুলোতে ঝুলছে বর্ণমালা। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি, আরবি, হিন্দি, ম্যান্ডারিন—বিভিন্ন ভাষার। অমর একুশে এখন কেবল আমাদেরই নয়, সারা বিশ্ববাসীর। ইউনেসকো ঘোষিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের সজ্জাতেও তাই এসেছে আন্তর্জাতিকতার ছাপ। গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকেই সড়কদ্বীপ সাজানো, পথে আলপনা আঁকাসহ একুশে উদ্যাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাংলা একাডেমির গ্রন্থমেলাতেও ছিল তার প্রভাব।
একে তো ছুটির দিন, তার ওপর রাত পোহালেই একুশে। চিরাচরিত জনস্রোত নেমেছিল বইমেলায়। মেলার ফটক খুলেছিল সকাল থেকেই। দিনের প্রথম ভাগে লোকসমাগম তেমন না থাকলেও দুপুরের পর থেকেই বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। বিকেলে উত্তরে টিএসসির, দক্ষিণে দোয়েল চত্বর— পুরো পথটি যেন জনসমুদ্র। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে প্রবেশপথ একটিই। বাংলা একাডেমির বিপরীত পাশে। ফলে প্রচণ্ড জনজট সৃষ্টি হয় আসতে-যেতে। লোকসমাগম বৃদ্ধির সঙ্গে কাল বিক্রিও বেড়েছে। আজ একুশের দিনেও মেলার ফটক খুলবে সকাল আটটায়, খোলা থাকবে টানা রাত নয়টা পর্যন্ত।
পাঠকের দায়িত্ব ভালো বই বেছে কেনা: সন্ধ্যায় মেলায় এসেছিলেন কবি কামাল চৌধুরী। তিনি বললেন, ‘মেলায় এলে লেখক, পাঠক, পরিচিতজনসহ অনেকের সঙ্গে দেখা হওয়ার এই বিষয়টি আনন্দ ও অনুপ্রেরণাদায়ক। মেলার পরিসর বৃদ্ধি ছিল বাস্তব প্রয়োজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা এবং বাংলা একাডেমির সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনাবলির স্মৃতি জড়িত। মেলার দুই অংশের মেলবন্ধন একটি ভিন্ন মাত্রা সৃষ্টি করেছে।’ বইয়ের মান সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতি মেলায় হাজার তিনেক বই প্রকাশিত হয়। মানসম্মত বইয়ের সংখ্যা বেশ কম। এর মধ্য থেকে ভালো বই বেছে কেনার দায়িত্ব পাঠকের। এবার মেলায় তাঁর দুটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে, পাঠক সমাবেশ থেকে এসেছে ভ্রমণ কাহিনি ও সময় থেকে উড়ে যাওয়া বাতাসের ভাষা।
প্রথমায় ভিড়: প্রথমার স্টলের সামনে গ্রন্থানুরাগীদের ভিড় ছিল প্রচুর। ছুটির দিনে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে বাবা-মায়েরা এসেছিলেন মেলায়। প্রথমার স্টলে শিক্ষার্থীদের প্রধান চাহিদা ছিল সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি: ভালো করার নিয়মকানুন বইটির। স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানালেন, এর মধ্যেই বইটির তিনটি সংস্করণ বেরিয়ে গেছে। এ ছাড়া গতকাল রকিব হাসানের কিশোরদের উপযোগী গোয়েন্দা সিরিজের অপারেশন বাহামা আইল্যান্ড ও বাঘের মুখোশ বই দুটিও ভালো বিক্রি হয়েছে। আকবর আলি খানের চাবিকাঠির খোঁজে: নতুন আলোয় জীবনানন্দের বনলতা সেন, বদরুল আলম খানের রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংঘাতময় বাংলাদেশ: অতীত থেকে বর্তমান এই বইগুলোও ভালো চলেছে।
নতুন বই: লোকসমাগমের মতো নতুন বই প্রকাশের সংখ্যাও বেড়েছিল গতকাল। তথ্যকেন্দ্রের হিসাব অনুসারে এসেছে ২৬৪টি নতুন বই। এর মধ্যে ছিল মূর্ধন্য থেকে মনজুরে মওলার কবিতা তুমি, শুদ্ধস্বর থেকে জুয়েল মাজহারের কবিতা মেগাস্থিনিসের হাসি, নবরাগ থেকে শেখ মাসুদ কামালের প্রবন্ধ গৌতম বুদ্ধ, মিজান পাবলিশার্স থেকে ফেরদৌস আহমেদ কোরেশির প্রবন্ধ ইসলাম, মুসলমান ও সাম্প্রদায়িকতা, কথা প্রকাশ থেকে লুৎফর রহমান রিটনের স্মৃতিচারণা স্মৃতির জোনাকিরা, অনুপম থেকে সজল আশফাকের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লিটিল বিটিল, চন্দ্রছাপ থেকে অমল কুমার বর্ণমের কবিতা যেন শতাব্দীর সকাল, পার্ল থেকে রণজিৎ সরকারের কিশোর উপন্যাস স্কুলে অনুপস্থিত, ভাষাপ্রকাশ থেকে হেনরী স্বপনের শ্রেষ্ঠ কবিতা, মুক্তধারা থেকে আহমেদ মাওলার প্রবন্ধ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলা সাহিত্য, দারুচিনি প্রকাশনী থেকে লীনা হাসিনা হকের প্রবন্ধ গোলাপবালা, সাহিত্য প্রকাশ থেকে মোফাজ্জল হোসেনের ভ্রমণবিষয়ক ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া, সূচীপত্র থেকে নোমান রশীদের কবিতা আঙুলে তোমার গোলাপ ফোটে ও রাতদুপুরে আমার স্বদেশ, অন্য প্রকাশ থেকে লোপা কায়সারের উপন্যাস মেঘের ওপারে।
আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আর একুশের গ্রন্থমেলা একাকার হয়ে যাবে বিপুল জনস্রোতে, বাড়বে বেচাকেনাও।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন