default-image

আগের দিন একুশের গ্রন্থমেলা থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়কে। ঠিক একইভাবে প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপরও হামলা হয়েছিল ২০০৪ সালে। গতকাল শুক্রবার ছিল হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলার একাদশ বার্ষিকী। লেখক-প্রকাশকেরা এই দুই হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন। মেলায় উপচে পড়া গ্রন্থানুরাগীরাও অংশ নিলেন প্রতিবাদে।
শুক্রবার সকাল থেকেই ফটক খুলেছিল মেলার। সাড়ে ১০টায় মেলামঞ্চে ছিল একুশে উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী। অতিথি ছিলেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
প্রতিবাদ: বর্ধমান হাউসের সামনে সাড়ে পাঁচটায় লেখক-প্রকাশক ও একাডেমি মিলিতভাবে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ, প্রকাশক ওসমান গনি, মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন। তাঁরা অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেন। হত্যাকারীদের আটক করে দ্রুত বিচার দাবি করা হয় সমাবেশ থেকে।

default-image

প্রকাশকেরা মেলা করলে আপত্তি নেই: আজ শনিবার থেকে শেষ হয়ে যাচ্ছে বাংলা একাডেমির অমর একুশের গ্রন্থমেলা। একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে যে অবস্থা চলছে, তার মধ্যে ভালোভাবেই মেলা করতে পেরেছি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এর চেয়ে ভালো মেলা হয় না। বহু মানুষ এসেছে। বিক্রিও হয়েছে।’ প্রকাশকদের মেলা বৃদ্ধির দাবিকে অমানবিক বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই মেলার সঙ্গে একুশের চেতনা জড়িত। সময় বৃদ্ধি করলে তা মেলার চেতনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে না।’ প্রকাশকেরা সংবাদ সম্মেলনে আগামী বছর থেকে নিজ উদ্যোগে মেলা করার দাবি করেছেন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁদের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। তাঁরা যদি মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন, তবে একাডেমি গবেষণা কাজে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘এই মেলার মেয়াদ বাড়ানোর বদলে তাঁরা পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে বা উত্তরার কোনো মাঠে স্বাধীনতা দিবসের মাসব্যাপী মেলা করতে পারেন। বাংলা একাডেমিকে আমন্ত্রণ জানালে সেই মেলায় একাডেমিও অংশ নেবে।’

default-image


প্রথমায়: মেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই পছন্দের বইটি কিনতে মেলায় এসে কেনাকাটার দিকেই মনোযোগী ছিলেন গ্রন্থানুরাগীরা। বিক্রিও বেড়েছে। উপচে পড়া ভিড় ছিল প্রথমার স্টলের সামনে। কাল স্টলের সামনেও হলুদ টি-শার্ট গায়ে বিক্রয় প্রতিনিধি রাখা হয়েছিল ক্রেতাদের সাহায্য করতে। তাঁদেরই একজন জানালেন, গতকাল এবারের নতুন বইগুলো ভালো বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে আনিসুজ্জামানের আত্মজীবনী বিপুলা পৃথিবী, আনিসুল হকের উপন্যাস বিক্ষোভের দিনগুলিতে প্রেম, বদরুল আলম খানের প্রবন্ধ সংঘাতময় বাংলাদেশ: অতীত থেকে বর্তমান বইগুলোর বিক্রি বেশি ছিল।
নতুন বই: তথ্যকেন্দ্রের তালিকা অনুসারে ১৯০টি। এর মধ্যে রয়েছে গ্লোব লাইব্রেরি থেকে রতন তনু ঘোষের প্রবন্ধ রাষ্ট্র রাজনীতি ও জনগণ, অন্য প্রকাশ থেকে হাসান আজিজুল হকের গল্প পঞ্চাশৎ, সজল আশফাকের চিকিৎসাবিষয়ক গর্ভবতীর এ টু জেড, চন্দ্রবতী একাডেমি থেকে আহমাদ মাযহারের ছোটদের রংবেরঙের প্রবন্ধ, সন্দেশ থেকে সৌরীন নাগ অনূদিত আমি, আসিমভ, হারুন-আর-রশীদের প্রবন্ধ এসেছে পার্ল থেকে মানব সৃষ্ট জলবায়ুর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, খাদ্যে বিষক্রিয়া: পরিত্রাণের উপায়, সংবেদ থেকে প্রশান্ত ত্রিপুরার আদিবাসীবিষয়ক গবেষণা গ্রন্থ বহুজাতির বাংলাদেশ, রঞ্জনা বিশ্বাসের প্রবন্ধ বাংলাদেশের পালকি ও পালকি বাহক, সূচিপত্র থেকে কায়কোবাদ মিলনের তুমি শুধু তুমি ইত্যাদি।
আজ শনিবার সকাল থেকেই খুলবে শেষ দিনের মেলার ফটক।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন