default-image

‘ওই দেখউক্কা (দেখুন) কারবারটা, মেলা শেষেও বোঝা (আবর্জনা) ফেলা। মাঠের তো বারোটা বাজি গেছে!’ তিক্ত সুরে কথাগুলো বললেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। ‘মাঠের বারোটা’ বলে দুরবস্থার চিত্র দেখাচ্ছিলেন তিনি। বিভিন্ন স্থাপনার স্তূপ করা ইট আর ইট। দূর থেকে ইটখলার মতো দেখাচ্ছিল। মাঠটি সিলেট নগরের পূর্ব দিকের শাহি ঈদগাহ এলাকায় অবস্থিত। কাগুজে নাম—সদর উপজেলা খেলার মাঠ।
মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে চলে প্রায় দুই মাস। দুই সপ্তাহ আগে মেলা শেষ হলেও মাঠে পড়ে আছে মেলার অবকাঠামো কাজে তৈরি করা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের সরঞ্জাম। যেগুলো স্তূপ আকারে মাঠে পড়ে থাকায় মাঠ আর আগের মতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি শাহি ঈদগাহের মাঠে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে। মেলায় দেশি-বিদেশি ১৬০টি স্টল, নয়টি দর্শনীয় প্যাভিলিয়ন, তিনটি বৈদেশিক ও চারটি ‘টেক্সটাইল জোন’ স্থাপনা ছিল। এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারাও। মাসব্যাপী মেলা শেষ হওয়ার কথা ছিল গত ৩ জানুয়ারি। কিন্তু মেলা চলছিল সময় বর্ধিত করে। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জানুয়ারি মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। ২৪ জানুয়ারি মেলা গোটানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠের ওপর থেকে সব স্থাপনা ও মেলার বর্জ্য অপসারণ করার কথা থাকলেও প্রায় দুই সপ্তাহেও তা করা হয়নি। এ কারণে মাঠ আর আগের অবস্থায় ফিরছে না।
আয়োজক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আয়োজকেরা চাচ্ছিলেন মেলা চলুক। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে গোটানোর নির্দেশ দেওয়া হলে অনেকটা বাধ্য হয়ে মেলা শেষ করা হয়। এ কারণে অনেকটা রাগ করেই আয়োজকেরা মাঠ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার কাজটি করে দিচ্ছেন না। স্টল তৈরির নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র ফেলে রাখায় মাঠকে মাঠ বলে চেনা যায় না। ইট-পাথরের সঙ্গে মাঠজুড়ে ছেঁড়া কাপড়, পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের পরিত্যক্ত প্যাকেট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।
গত শনিবার সকালে সরেজমিনে গেলে ওই মাঠেরই এক কোণে একদল কিশোরকে খেলতে দেখা যায়। মাঠের এ অবস্থা নিয়ে খেলায় মেতে থাকা কিশোরেরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে। মাঠটি মূলত আশপাশের কয়েকটি মহল্লার বাসিন্দারা খেলার মাঠ হিসেেব ব্যবহার করতেন। বড়রা প্রাতর্ভ্রমণ ও ছোটরা বিকেলে খেলাধুলা করত।
মেলার আয়োজক সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার হলেও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এর সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁরা উদ্যোগী হয়ে মাঠের বরাদ্দও নিয়েছিলেন। মেলার কারণে মাঠের কোনো ক্ষতি হলে সংস্কার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল তাঁদের। এ ব্যাপারে আশফাক আহমদ বলেন, কিছুদিনের মধ্যে এ কাজ করা হবে।
যোগাযোগ করলে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাসিন আহমদ প্রথম আলোকে জানান, এটা আসলে তাৎক্ষণিক অপসারণের কথা ছিল। হরতাল-অবরোধের জন্য একটু দেরি হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ এ কাজ করা হবে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন