রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যানসার রোগীদের রেডিওথেরাপির জন্য কোবাল্ট-৬০ যন্ত্রটির সোর্সের মেয়াদ ছয় বছর আগে শেষ হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এ সোর্স দিয়েই চলছে রোগীদের রেডিওথেরাপি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ক্যানসার রোগীর চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি দিতে ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে কোবাল্ট যন্ত্রটি আনা হয়। এই যন্ত্রের মধ্যে ‘সোর্স’ নামের একটি গোলাকৃতির যন্ত্র রয়েছে। এই সোর্সের মাধ্যমে রোগীর দেহে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। এই সোর্সের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। অর্থাৎ ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এ যন্ত্র দিয়ে রোগীদের দেহে রেডিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে এখনো।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে যন্ত্রটি দিয়ে থেরাপি দিতে সময় অনেক বেশি লাগছে। দীর্ঘ সময় রোগীরা নড়াচড়া না করে থাকতে পারে না। আর নড়াচড়া করলে নির্দিষ্ট স্থানে থেরাপি না হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার ৫২ জন রোগীর থেরাপি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল থেরাপি দেওয়ার আগে কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা হয়। এর মধ্যে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কুদ্দুস মিয়া (৬৫) দুই মাস ধরে সপ্তাহে পাঁচ দিন করে এ হাসপাতালে রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মমতাজ বেগম (৫৫) ১৩ দিনে সপ্তাহে পাঁচ দিন থেরাপি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালোত একটা যন্ত্র আছে। তাই এটে থেরাপি দিতোছি।’
হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক স্বপন কুমার নাথ প্রথম আলোকে জানান, অনেক আগেই এ যন্ত্রের সোর্স মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এর পরও এটি দিয়ে রোগীদের রেডিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের চার থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে রেডিওথেরাপি হওয়ার কথা। সোর্স মেয়াদোত্তীর্ণের আগে তা-ই হতো। কিন্তু এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগছে। বেশি সময় নেওয়ায় রোগীরা একটু নড়াচড়া করে। রোগী নড়ে গেলে রেডিওথেরাপি খুব একটা কাজে আসবে না।
হাসপাতালের পরিচালক আবদুল কাদের খান বলেন, এ যন্ত্রটি বদলানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার পত্র মারফত জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন