default-image

ময়মনসিংহ জেলায় করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হঠাৎ করেই প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। নমুনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণের পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষার শেষ ৫ দিনে গড়ে যেখানে প্রতিদিন ৫০৬ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, সে তুলনায় ফি নির্ধারণের পর থেকে গত ৫ দিনে এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ২৯২ জনে।

ফলে সংক্রমণ আরও বৃদ্ধি পাবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি শরীফুজ্জামান পরাগ বলেন, অতীতে বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষা করা হতো, তাই মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে নমুনা জমা দিতেন। কিন্তু এখন টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় অনেকেই নমুনা দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। বিশেষ করে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের দরিদ্র মানুষের আগ্রহ কমেছে।

এমনিতেই করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের আয়রোজগারে প্রভাব পড়েছে। অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। আবার অনেকেই নতুন করে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে টাকার বিনিময়ে নমুনা পরীক্ষা অনেকের জন্যই বোঝা। টাকার অঙ্ক খুব বেশি না হলেও অনেকের জন্য এটাই অনেক বড় অঙ্ক। এই মুহূর্তে সারা দেশের করোনা পরিস্থিতি যেভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে, দ্রুত সংক্রমিত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করতে মানুষকে বেশি করে নমুনা পরীক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নয়তো সংক্রমণ আরও ব্যাপক হারে বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সনাক সভাপতি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর গত মঙ্গলবার থেকে টাকার বিনিময়ে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। বুথে গিয়ে নমুনা দিলে ২০০ টাকা, আর বাড়িতে থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে নমুনা জমা দিলে ৫০০ টাকা ধার্য করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আর হাসপাতালে ভর্তি কোনো রোগীর জন্য এই খরচ ২০০ টাকা।

অর্থের বিনিময়ে নমুনা পরীক্ষা চালুর পূর্বের ৫ দিন ও পরবর্তী ৫ দিন—এই মোট ১০ দিনের নমুনা পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মঙ্গলবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত এই পাঁচ দিনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ হাজার ১৩৩টি। অথচ তার আগের ৫ দিনে, অর্থাৎ গত ২৫ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৩ হাজার ৪২৭টি। পার্থক্য করে দেখা গেছে, ৫ দিনের ব্যবধানে নমুনা পরীক্ষা ৩৮ শতাংশ কমে গেছে।

এর মধ্যে গত ৫ দিনে ময়মনসিংহ জেলার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ হাজার ৪৬৩টি। তার আগের ৫ দিনে নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ২ হাজার ৫৩০টি। ৫ দিনের ব্যবধানে নমুনা পরীক্ষা কমেছে ১ হাজার ৬৭টি। শতকরা হিসেবে ৪২ শতাংশ কমেছে। একইভাবে নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুরসহ অন্যান্য জেলার নমুনা সরবরাহও কমেছে। ময়মনসিংহ ব্যতীত অন্যান্য জেলা মিলিয়ে গত ৫ দিনে মাত্র ৬৭০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

পূর্বের তুলনায় নমুনা পরীক্ষা কম হচ্ছে কেন, জানতে চাইলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালমা আহমাদ জানান, গত কয়েক দিনে নমুনা সরবরাহের পরিমাণ কমে গেছে। তাই আগের চেয়ে কম পরীক্ষা হয়েছে। তবে ল্যাবে কোনো নমুনার জট নেই এবং কোনো ধরনের সংকট নেই।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন এ বি এম মসিউল আলম জানান, গত কয়েক দিনে নমুনা পরীক্ষা করাতে আসা মানুষের সংখ্যা কমেছে। বাড়িতে থেকেও নমুনা জমা দেওয়ার আবেদন কম। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ফলোআপ নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে উপসর্গ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য নমুনা পরীক্ষা কমে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0