default-image

যশোরের অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শিশু সদস্য শহিদুল্লাহকে ২২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার যশোরের শিশু আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২–এর বিচারক মাহমুদা খাতুন আলাদা এই দণ্ড দেন।

শহিদুল্লাহ বাগেরহাট মোল্লাহাটের গড়কা গ্রামের মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে। ১৮ বছর ধরে তিনি কারাগারে আটক আছেন। ২০০৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় শহিদুল্লাহর বয়স ছিল ১৪ বছর।

জানতে চাইলে নারী ও শিশু আদালতের বিশেষ পিপি এম ইদ্রিস আলী বলেন, ১৮ বছর আগে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যসহ শহিদুল্লাহকে আটক করে যশোরের ঝিকরগাছা থানার পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ শহিদুল্লাহকে জেএমবির শিশু সদস্য উল্লেখ করে মামলা করে। মামলার দুটি ধারায় আদালত শহিদুল্লাহকে ২২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। ১৮ বছর ধরে তিনি কারাগারে আটক আছেন। আদালতে দেওয়া ২২ বছরের সাজা থেকে ১৮ বছর সমন্বয় করা হবে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ৯ মার্চ ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ মাটিকুমড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলসহ জাহিদুল ইসলাম ও শহিদুল্লাহকে আটক করে। এ সময় তাঁদের কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে দুটি দেশি পিস্তল, সাতটি পিস্তলের গুলি, ৬৫টি পিস্তলের গুলির খোসা, ১৭টি পিস্তলের গুলির সিসা, সাতটি সুইচ লাগানো বোমাসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম, বোমায় ব্যবহৃত ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানার কনস্টেবল আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে আলাদা দুটি মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে ওই দুজনকে অভিযুক্ত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা অভিযোগপত্র জমা দেন। শহিদুল্লাহ শিশু হওয়ায় নথি বিভাজন করে শিশু আলাদাতে তাঁর বিচার করা হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অস্ত্র মামলায় শহিদুল্লাহকে ১৭ ও বিস্ফোরক মামলায় ৫ বছর মোট ২২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। অপর অভিযুক্ত জাহিদুলের বিচার এখনো চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন