বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, উত্তম বড়ুয়া মামলার আসামি। তবে তিনি এলাকায় নেই। হামলার ঘটনার পর থেকে তিনি নিখোঁজ। তিনি কোথায় আছেন, পুলিশ জানে না।

উত্তমের স্ত্রী রিতা বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উগ্রবাদী কিছু লোকজন ‘উত্তম বড়ুয়ার গালে গালে, জুতা মার তালে তালে’ স্লোগান দিয়ে তাঁদের ভাড়া বাড়ির দিকে হামলা চালাতে আসছিলেন। তখন উত্তমের সঙ্গে তিনি ঘরে বসে গল্প করছিলেন, সঙ্গে ছিল আড়াই বছরের এক শিশুসন্তান। সেই যে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলেন, এখন পর্যন্ত আর কোনো খোঁজ নেই তাঁর। গত ৯ বছরে একটিবারের জন্যও যোগাযোগ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

রিতা বড়ুয়া বলেন, ‘বেঁচে থাকলে নিশ্চয় যোগাযোগ করতেন। ছেলে বড় হয়েছে। বাবার কথা জিজ্ঞাসা করে, কিছুই বলতে পারি না।’ রামু হামলার পর ধ্বংসস্তূপের ওপর ১২টি দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধবিহার তৈরি হলেও তিনি ছিলেন সবার নজরের বাইরে। উত্তমের কারণে তিনি আশপাশের মানুষের অবহেলার শিকার। মানুষ খারাপ চোখে দেখে তাঁকে। আতঙ্কে কোথাও বের হতে পারেন না। কেউ কাজও দেন না। কয়েকজন ছেলেমেয়েকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়িয়ে কোনোরকমে জীবন চলছে তাঁর। আশায় বুক বেঁধে আছেন, কোনো একদিন স্বামী ফিরে আসবেন।

বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা সংসার পাতেন উত্তম বড়ুয়া। পাঁচ কিলোমিটার দূরে ফতেখারকুল ইউনিয়নের হাইটুপী গ্রামের ছোট্ট টিনের ঘরে প্রতিবন্ধী এক মেয়েকে নিয়ে থাকেন মা মাধু বড়ুয়া। ছেলের প্রসঙ্গ তুলতেই হাউমাউ করে কান্নাকাটি শুরু করলেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে উত্তম কোথায়, কেউ জানে না। উত্তমের জন্য বুকটা সারাক্ষণ ধড়ফড় করে, মন জ্বলে, কিন্তু খুঁজে পাই না।’

উত্তম বড়ুয়ার খোঁজ নেই বলে জানিয়েছেন রামু কেন্দ্রীয় মহাসীমা বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি তরুণ বড়ুয়া, জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু, রামু উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নীতিশ বড়ুয়া, কবি ও সাহিত্যিক দর্পণ বড়ুয়াসহ এলাকার অনেকে।

রামু হামলার পর ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রামু থানার তৎকালীন ওসি নজিবুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তম কুমার বড়ুয়াসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে উত্তমকে প্রধান আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। বর্তমানে মামলাটি কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন। সাক্ষীর অভাবে মামলাটি ঝুলে আছে।

ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, একাধিকবার নোটিশ ও তাগাদা দেওয়ার পরও কেউ সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসছেন না। এ কারণে মামলার বিচারকাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন