মা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলেন এস্থার জামিনা জডিং। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি। ৩৭ বছর পর গত ২৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নাহিদ ব্রাউনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে খুলনায় আসেন এস্থার। পরদিন খুলনার একটি বাসায় দেখা হয় মা-মেয়ের।
গতকাল শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে নূরজাহান বেগম বলেন, ‘মেয়ে আজ চলে গেছে। যাওয়ার আগে আমার সাথে মোবাইলে কথা বলছে। বাড়িতে পৌঁছে আবার আমাকে ফোন করবে। আমাকে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে বলেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে ও মা বলে ডেকেছে। আমার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় ও গলা জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছে। আমি আমার হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাকে খুঁজে পেয়েছি এর চেয়ে বড় খুশি আর কী হতে পারে।’
নাহিদ ব্রাউন বলেন, এস্থার আগে মা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে চাইছেন। তাঁদের জন্যও তিনি কিছু করতে চান।
১৯৭৭ সালের জুনে মাত্র পাঁচ দিন বয়সে খুলনার দাকোপ উপজেলার গুনারী গ্রামের নূরজাহান বেগম ও মোহন গাজী দম্পতির পঞ্চম সন্তান জামিলাকে ৫০০ টাকায় বাবা মোহন গাজী খুলনার এজি মিশনে বিক্রি করে দেন। এর প্রায় আট মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের মেরি ও পেট দম্পতি এজি মিশনে আসেন। তাঁরা জামিলাকে দত্তক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। জামিলা হয়ে যান এস্থার জামিনা জডিং। ২০১৩ সালে টুইটার ও ফেসবুকে এস্থারের সঙ্গে পরিচয় হয় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি নওরীন ছায়রা ও তাঁর বড় বোন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নাহিদ ব্রাউনের সঙ্গে। জামিনার সেই সময়ের বাংলাদেশি পাসপোর্টের সূত্র ধরে তাঁরা নিশ্চিত হন তাঁর বাড়ি খুলনার কোনো এক গ্রামে। এরপর নাহিদ তাঁর ফুফাতো ভাই খুলনায় আবু শরীফ হুসেন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রায় এক বছর চেষ্টা করে এস্থারের মা নূরজাহানের সন্ধান পান মংলায়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0