যেখানে ডানা মেলে নতুনের স্বপ্ন

বিজ্ঞাপন
default-image

নাসরিন সরোয়ার পোশাক ডিজাইনে হাত পাকিয়েছেন আগেই। বাকি ছিল ফ্যাশনের বড় প্ল্যাটফর্ম থেকে সেরার স্বীকৃতি। এবার সেটাও ভরলেন ঝুলিতে। প্রথম আলো ঈদফ্যাশন প্রতিযোগিতায় সেরাদের সেরা হয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললেন, ‘এ স্বীকৃতি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে’। নাসরিন গত বছর প্রথম অংশ নেন এই প্রতিযোগিতায়। জিতে নেন চারটি বিভাগে পুরস্কার। এবার আরও তৈরি হয়ে এসে পুরস্কারের তালিকা বাড়ালেন, হলো পাঁচটি। তাও দুটিতে প্রথম।

default-image

নাসরিনের সঙ্গে মিল রয়েছে ডিজাইনার আলী আহমদেরও। তিনি এবার প্রথম অংশ নিলেন। এসেই জিতলেন চারটি বিভাগে পুরস্কার। তাহলে আগামীবার? আলীর কণ্ঠে দৃঢ়তা—‘কাজের পরিধি বাড়াব। নামব আটঘাট বেঁধে।’

অন্যদিকে উম্মে হাবিবা, আমনা হক, ফারহানা চৌধুরী, ফারিহা হাসিন, রুবিনা আক্তাররাও ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে নিজেদের পোক্ত করে বড় পরিসরে উৎপাদনের কথা ভাবছেন। সবার এক কথা—‘কাজের পরখ হয় এই প্রতিযোগিতায়।’

default-image

প্রথম আলো ঈদফ্যাশন প্রতিযোগিতার গল্পটা এ রকম। প্রতিবছর এক ঝাঁক নতুন ডিজাইনারের স্বপ্ন ডানা মেলে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে। ১৯ বছরের পথচলায় চট্টগ্রামকে দিয়েছে অনেক ডিজাইনার। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ব্র্যান্ড। এর মধ্যে অন্যতম ফ্যাশন হাউস নিডলওয়ার্ক, শৈল্পিক, মিয়াবিবি, নিহাল ওয়ারড্রপ ও নক্ষত্র।

default-image

এবার চূড়ান্তপর্ব অনুষ্ঠিত হয় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। নগরের পাঁচ তারকা হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু চিটাগং বে ভিউর মোহনা মিলনায়তনে জমকালো ফ্যাশন শোতে প্রদর্শিত হয় নবীন ডিজাইনারদের পোশাক। এবার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল সানসিল্ক, সহপৃষ্ঠপোষক রিজেন্ট এয়ারওয়েজ।

এই পথচলার শুরু ১৯৯৮ সালে। চট্টগ্রামে ফ্যাশনের প্রথম আয়োজন। এরপর ঢাকায় বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কিন্তু একে একে সব আলো নিভে এখনো জ্বলছে চট্টগ্রামের সেই প্রদীপ। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে দীর্ঘ পথের গল্প শোনান প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ডিজাইনাররা সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন এই প্রতিযোগিতার জন্য। তাঁদের ভালোবাসায় এত দূর আসা।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি। এ দেশের ডিজাইনাররা দিন দিন তাঁদের পোশাক নিয়ে বিশ্বের দরবারে হাজির হবেন, এই প্রত্যাশা আমাদের।’

স্বাগত বক্তব্যের পর শুরু হয় ফ্যাশন কিউ। মোট ১৩টি বিভাগে প্রতিযোগিতা হয়। এতে পুরস্কার জেতেন ১৬ জন ডিজাইনার। কানায় কানায় পূর্ণ মিলনায়তনে তিন ঘণ্টা ধরে ফ্যাশন শোর পাশাপাশি নাচ ও গান উপভোগ করেন দর্শকেরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চলচ্চিত্র নায়িকা মৌসুমী। তিনিও কথামালায় প্রতিযোগিতাটি নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক আরও একবার চট্টগ্রামের জয়গান গেয়ে যান। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম আমাদের সংস্কৃতিতে আলো দেখিয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও এই চট্টগ্রাম পথ দেখিয়েছে। বিজয় মেলাসহ অনেক কিছুর জন্ম এই চট্টগ্রামে। প্রথম আলো ঢাকায় অনেক অনুষ্ঠান করে। কিন্তু এই ফ্যাশন প্রতিযোগিতাটি ১৯ বছর ধরে চট্টগ্রামেই হয়ে আসছে। চট্টগ্রাম বাংলাদেশকে পথটা দেখাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন