বিজ্ঞাপন

পাখিটি মূলত হাওরাঞ্চলের হলেও ২০–২৫ বছর আগে রংপুরের নদী, বিল এলাকায় দেখা যেত। আজকাল সচরাচর দেখা যায় না। এর অন্যতম কারণ এদের বসবাসের জন্য উপযুক্ত জলাভূমি কমে যাওয়া। সাধারণত জনসমাগম কম থাকে, পদ্মপাতা কিংবা কিছুটা আগাছা-জঙ্গল আছে এমন নিম্নাঞ্চল ও বিলে জলময়ূর থাকে। বিলগুলো সরকারিভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ার কারণে সেখান থেকে পদ্মপাতাও তুলে ফেলা হয়। ফলে এ পাখির আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে।

সম্প্রতি স্থানীয় পাখিপ্রেমীদের অনেকে মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুর বিলে জলময়ূর দেখতে পেয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, বাচ্চা দেওয়ার জন্যই জোড়ায় জোড়ায় জলময়ূর সেখানে এসেছে।

জ্যাকানিডি পরিবারভুক্ত জলময়ূরের বৈজ্ঞানিক নাম Hydrophasianuschirurgus। ইংরেজিতে বলা হয় ফিস্যান্ট–টেইলড জ্যাকানা।

পাখি ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক আ ন ম আমিনুর রহমান জানালেন, সাধারণত পাখিদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডিম দেওয়ার পর কখনো স্ত্রী, কখনো পুরুষ পালা করে তা দিয়ে থাকে। ফোটার পর বাচ্চাগুলোকে দুজন মিলেই খাওয়ায়। কিন্তু জলময়ূরই সেখানে ব্যতিক্রম। পিতৃস্নেহে বড় হয় ছানাগুলো। স্ত্রী জলময়ূর সচরাচর একাধিক পুরুষের সঙ্গে প্রজনন করে। এক সঙ্গীর কাছে চারটি ডিম দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। ডিম দেওয়ার পর স্ত্রী পাখিটি সঙ্গী ও ডিম ছেড়ে চলে যায়। এরপর পুরুষ পাখিটি প্রায় ২৬ দিন ধরে ওই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। সাধারণত দুই মাস বাচ্চাগুলো বড় হওয়া পর্যন্ত পুরো দায়িত্ব পালন করে পুরুষ পাখিটি। এ জন্য এসব জলময়ূরকে ‘সিঙ্গেল ফাদার’ বলা হয়। তবে মা জলময়ূর ডিম ও সঙ্গীর কাছ থেকে দূরে সরলেও এলাকায় শক্র এলে তা তাড়াতে এগিয়ে আসে।

জলময়ূর হাওর, বিল, হ্রদ প্রভৃতি মিঠাপানির জলাভূমিতে বাস করে। গ্রীষ্মকালে একাকী বা জোড়ায় ও শীতকালে ঝাঁক বেঁধে বিচরণ করে। জলজ উদ্ভিদে থাকা পোকামাকড় খায়। এ ছাড়া জলজ উদ্ভিদের কচি পাতা, অঙ্কুর ও বীজ খেয়ে থাকে।

রংপুরের পাখি আলোকচিত্রী রাকিন জহির প্রায় এক যুগ ধরে পাখি নিয়ে কাজ করছেন। জলময়ূর আবার ফিরে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, কেবল জলময়ূর নয়, অন্যান্য পাখিও নদী ও বিল এলাকায় দেখা যাচ্ছে, যা আগে কম দেখা যেত। আবহাওয়ার অঞ্চলভিত্তিক তারতম্যের কারণে এমন হতে পারে বলে তাঁর মত। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন