কলাপাড়া-কুয়াকাটার একসময় মালিক ছিল রাখাইনরা। জঙ্গল পরিষ্কার করে, হিংস্র পশুর সঙ্গে যুদ্ধ করে রাখাইনরা এ উপকূলকে সভ্য করেছে। মানুষের বাসযোগ্য করে তুলেছে। অথচ তারাই আজ নিজ ভূমে পরবাসী হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে রাখাইনরা আজ শূন্য হয়ে পড়েছে। হতদরিদ্র রাখাইন পরিবারগুলো ভিজিএফ কার্ড, বয়স্ক ভাতাসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
‘বরিশাল অঞ্চলের রাখাইনদের ভূমি সমস্যা এবং বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা উঠে আসে।
গতকাল রোববার বেলা ১১টায় কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঢাকা থেকে আসা নাগরিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের এ সভা হয়। কারিতাসের সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প (আইসিডিপি) রাখাইন-কলাপাড়া এ সভার আয়োজন করে।
কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক ফ্রান্সিস ব্যাপারী এতে সভাপতিত্ব করেন। ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য সভায় বলেন, ‘সাঁওতাল-রাখাইনরা পাহাড়ে-সমতলে ভালো থাকুক, সেটা আমরা চাই। এরপর থেকে রাখাইনদের ওপর সম্প্রদায়গতভাবে কোনো অত্যাচার-অবিচার করা হলে কোনোভাবে মেনে নেব না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘কলাপাড়া-কুয়াকাটার রাখাইনদের জীবন-জীবিকা দেখে আমরা হতাশই হলাম। পায়রা বন্দরের পাশে ছ’আনী পাড়া রাখাইনপল্লির জমি একশ্রেণির মানুষ দখল করে নিয়ে যাচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম সাদিকুর রহমান বলেন, ‘তাদের অধিকার সম্পর্কে আমরা সচেতন রয়েছি। সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। রাখাইন জনগোষ্ঠীর মানুষকে শুধু জমির ওপর নির্ভরশীল হলেই হবে না। তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন