যৌবনে কেউ ছিলেন শিক্ষক, কেউ বা সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা। তবে এখন সবাই সমাজের জ্যেষ্ঠ নাগরিক। খোলামেলা আলোচনায় তাঁরা তুলে ধরছিলেন নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা। অনেকে আক্ষেপ করে বললেন, সমাজের যুব সম্প্রদায়ের কছে তাঁদের গুরুত্ব নেই। অথচ প্রবীণের জ্ঞান এবং যুবকদের উদ্যমই পারে দেশকে এগিয়ে নিতে।
গত ৩০ জানুয়ারি রাঙামাটির প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান আয়োজিত প্রবীণ সম্মিলনে এসব কথা বলেন জেলার জ্যেষ্ঠ নাগরিকেরা। শহরের বিলাইছড়িপাড়ায় অবস্থিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুষার কান্তি চাকমার বাসভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সম্মিলনে হাজির হয়েছিলেন অর্ধশতাধিক প্রবীণ ব্যক্তি। সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মো. আরফান আলীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রাঙামাটি প্রবীণ হিতৈষী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন মানিক লাল দেওয়ান। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক দিন বিদেশে ছিলাম। সেখানেও দেখেছি তরুণেরা প্রবীণদের গুরুত্ব দেন না। তবে পশ্চিমাদের চেয়ে আমরা এখনো অনেক ভালো আছি। কারণ, অনেক ছেলেমেয়ে এখনো বাবা–মা অন্তঃপ্রাণ।’
মানিক লাল দেওয়ান আরও বলেন, প্রবীণদের নিঃসঙ্গতার কথা চিন্তা করে ২০০৩ সালের ১ অক্টোবর রাঙামাটিতে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ গঠন করা হয়।
লক্ষ্য ছিল প্রবীণেরা যেন নানা সময়ে একত্র হতে পারেন, নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা বলতে এবং মতবিনিময় করতে পারেন।
প্রবীণদের দিনব্যাপী মিলনমেলায় অনেকে পুরোনো বন্ধুকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। পরস্পরের কাছে জানতে চেয়েছেন, ছেলে–মেয়ে, নাতি-নাতনিরা কে কী করছে, কোথায় আছে? ছাত্রজীবনের কথা স্মরণ করে অনেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গণপূর্ত বিভাগের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জগৎ জ্যোতি চাকমাকে সভাপতি ও ধর্মজ্যোতি চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি জেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন