default-image

রাজনীতির অপরাধীকরণ ও অপরাধের রাজনীতিকরণ বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে অন্যতম বাধা। তবে দেশপ্রেমিক তরুণ নেতৃত্ব যদি এগিয়ে আসে, তাহলে সেই বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মতোই উন্নত হতে পারবে। কেননা, চীন-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে উন্নয়নের যে পূর্বশর্তগুলো ছিল, তা বাংলাদেশেও রয়েছে।
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে গতকাল শুক্রবার ‘সমতাভিত্তিক উন্নয়ন: একুশ শতকে বাংলাদেশের কৌশল’ শীর্ষক একক বক্তৃতায় যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের যোসেফ করভেন স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অর্থনীতির অধ্যাপক হায়দার এ খান এসব কথা বলেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে ‘বিশিষ্ট বিদ্বজ্জন বক্তৃতামালা’র অংশ হিসেবে তিনি বক্তৃতা করেন।
অধ্যাপক হায়দার এ খান বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে অন্যতম বাধা হিসেবে সুশাসনের অভাব, দুর্বল সংসদীয় ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি, সামাজিক বৈষম্য বেড়ে যাওয়া, নাগরিক সমাজের দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের অভাবকেও চিহ্নিত করেন। এই বাধা পেরোনোর পথে যে তরুণ নেতৃত্বকে তিনি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কৃষক, শ্রমিক, উন্নয়নকর্মী ও অন্যান্য পেশাজীবীর প্রতিনিধি থাকতে হবে।
অবশ্য উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বাংলাদেশের ১০টি শক্তিমত্তাও চিহ্নিত করেন অধ্যাপক হায়দার। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের মানুষের ধর্মনিরপেক্ষ ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা, বহুমাত্রিক অর্থনীতি, ক্ষুদ্রঋণের সফলতা, আধা দক্ষ ও দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি, ঐতিহ্যগতভাবে বহুত্ববাদী সংস্কৃতির উপস্থিতি এবং অপশাসন ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অভিজ্ঞতা।
অধ্যাপক হায়দারের বক্তৃতার ওপর আলোচনা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নের পথ ধরে বাংলাদেশ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে এখানকার রাজনীতির ওপর। কিন্তু দেশের বর্তমান অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, তাতে দুই দলের পালাক্রমে ক্ষমতা দখল এবং লুটপাটের দিনও আর থাকছে না।
বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাদ আন্দালিব এবং সঞ্চালনা করেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ হাশমী।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন