default-image

রাজনীতির লক্ষ্য সমস্যার সমাধান করা, সমস্যা সৃষ্টি করা নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় সংকটময় মুহূর্তে রাজনীতিবিদদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। সেই রাজনীতি এখন শ্রীহীন ও অসুন্দর হয়ে গেছে। রাজনীতি অর্থকরী পেশায় পরিণত হয়েছে।
প্রথম আলোকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এএসএম শাহজাহান।
ক্রমাগত রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতা বৃদ্ধির জন্য বিচারহীনতার সংস্কৃতি বহুলাংশে দায়ী বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, যে সমাজে আইনের শাসন থাকে না বা দুর্বল, সেখানে সমস্যা বাড়বে ছাড়া কমবে না।
ক্ষমতায় থেকেও খুনোখুনিএএসএম শাহজাহান বলেন, অপরাধ সংক্রামক ব্যাধির মতো। গ্রেপ্তার ও আইনের হাত থেকে বাঁচার সুযোগ যত বেশি, অপরাধও তত বেশি হবে।
সাবেক উপদেষ্টা মনে করেন, রাষ্ট্রযন্ত্র যদি কাউকে দিয়ে একটি অপরাধ করায়, তাহলে সেই ব্যক্তি নিজের জন্য ১০টি অপরাধ করবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দলীয়করণে প্রভাবিত হয়ে পেশাদারত্ব থেকে দূরে সরে গেলে সেই সমাজে অপরাধ, সংঘাত ও সহিংসতা বাড়তে বাধ্য।
আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে পুলিশের সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, শুধু আইনের চোখে সবাই সমান হলে চলবে না, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সবার চোখও সমান হতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি দিলে তা অপরাধ ও অপরাধীকে উৎসাহিত করে বলে মনে করেন তিনি।
এ মুহূর্তে শিক্ষাঙ্গন থেকে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটানোর পক্ষে মত দিয়ে জনাব শাহজাহান বলেন, আজ ছাত্ররাজনীতির নামে যে কলঙ্কিত রাজনীতি, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি হচ্ছে, সে জন্য অসুস্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ বহুলাংশে দায়ী। তাঁর মতে, রাজনীতিতে স্বার্থান্ধতা জেঁকে বসেছে। এর প্রতিকারে ইচ্ছা বা নির্দেশই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন দৃঢ় সংকল্প এবং জাতীয় ঐকমত্য।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন