default-image

রাস্তা দখলমুক্ত করতে না পারলে চার লেন নয়, বাংলাদেশে ১৬ লেন করেও যানজট দূর করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণেই রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা যায় না।

‘সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা এবং অংশিদারিত্বমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সভার আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ট্রমালিংক। অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের বলেন, যেখানে সেখানে গাড়ি রেখে দিলে, রাস্তার ওপর বাজার বসলে, রাস্তা দখল হয়ে গেলে ১৬ লেন করেও যানজট দূর করা সম্ভব না। আবার রাজনীতির কারণেই রাস্তা দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না। কোথাও দখলমুক্ত করতে গেলেই রাজনৈতিক প্রভাব চলে আসে। একইভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই দখল হয়ে যায়।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেন করার কাজ চলছে। অনেকগুলো জায়গায় মসজিদ-কবর-মন্দির। বারবার বৈঠক করেও এই সমস্যার সমাধান করতে পারিনি। তবে তারপরেও ১৪০ কিলোমিটারের কাজ শেষ। ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কেরও কাজ শেষ। কিন্তু রাস্তা ভালো থাকলেও তো সমস্যা। অনেকে আমাকে বলছেন, রাস্তা তো ভালো করছেন এখন তো চালকেরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাবে, দুর্ঘটনা বাড়বে। এটা তো ঠিক, যারা গাড়ি চালান তারা স্টিয়ারিং হাতে পেলেই মনে করে রাস্তার রাজা। আবার চালকেরা ২০-২২ ঘণ্টাও পরিশ্রম করে। অনেক সময় দেখা যায় গাড়ি রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। যানজট বেঁধে যায়।
মানসিকতা না বদলালে কোনো দিন সড়কের পরিস্থিতি বদলাবে না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাধারণ মানুষ আইন মানে কিন্তু অসাধারণ মানুষেরা (ভিআইপি) আইন মানে না। তাদের গাড়ি রং সাইডে যায়। এই মানসিকতা বদলাতে হবে। আমি কত জায়গায় দৌড়াবো। এ যেন সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেব কথা। আসলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করা ছাড়া এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখন যে কোনো অনুষ্ঠানে আমার পেছনে লোকজন দাঁড়ানো বন্ধ করে দিয়েছি। দেখা যায় কেউ আমার পেছনে দাঁড়িয়ে পড়ে সেই ছবি দেখিয়ে অন্য কাউকে বলছে, আমার ভাস্তে, ভাতিজা। কিন্তু আদৌ সে আমার চৌদ্দ পুরুষের কেউ না। আর মন্ত্রী হলে বন্ধু, ভাস্তে, ভাতিজার অভাব হয় না। কিন্তু ক্ষমতায় না থাকলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।’
সভায় ওবায়দুল কাদের মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সড়কের যানজটসহ সব সমস্যা এবং দুর্ঘটনা বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিক। আর সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় জড়িত। সবগুলো মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি মানবিকভাবে দেখতে হবে। এ জন্য স্বাধীনতার পর এক লাখ লোক মারা গেছে। যারা স্বজনহারা তারাই শুধুমাত্র কষ্টটা জানে। কাজেই সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কাঞ্চন বলেন, ‘২৩ বছর ধরে এ নিয়ে বহু আলোচনা হচ্ছে। একই ধরনে কথা আমরা বলেই যাচ্ছি কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিরোধের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় জড়িত। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারই এতে নেতৃত্ব দিতে পারে।’
ট্রমা লিংকের প্রতিষ্ঠাতা মার্কিন নাগরিক জন মুসালেহ বলেন, আমরা দুর্ঘটনামুক্ত সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। দুর্ঘটনা ঘটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে মানবিক সেবাদানের কার্যক্রম থাকা জরুরি। এ জন্য কোন একটি নম্বর থাকতে পারে যেখানে দুর্ঘটনার পরেই মানুষ ফোন করে সাহায্য চাইতে পারেন। আবার যারা উদ্ধার করতে যাবে তাদেরও প্রশিক্ষণ জরুরি। তিনি ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকায় তাদের পরীক্ষামূলক একটি কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0