default-image

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের উদ্যোগে আয়োজিত এক চা-চক্র অনুষ্ঠান থেকে মৌলিক ন্যূনতম সমঝোতার ভিত্তিতে একটি জাতীয় সনদ (ন্যাশনাল চার্টার) তৈরির প্রস্তাব এসেছে। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও আইনজীবীরা সংকট নিরসনে এমন একটি সনদের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলের একটি হোটেলে ঈদ-পরবর্তী চা-চক্র আয়োজন করেন ড. কামাল। চা-চক্রে দেশের গণতন্ত্রের সংকটসহ সুশাসনের অভাব, দুর্নীতি, গুম ও ক্রসফায়ার, নারী ও শিশু নির্যাতন নিয়ে আলোচনা হয়।
রুগ্ণ রাজনীতি মানুষকে অমানুষ বানাচ্ছে উল্লেখ করে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, যারা লাভের জন্য রাজনীতি করে তারা ধ্বংস হয়ে যায়। স্বৈরাচাররা এ দেশে টিকতে পারে না। তিনি বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষের এই দেশ সুস্থ রাজনীতি ছাড়া চলবে না। বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ২৪টি পেশাজীবী সংগঠন অংশ নিয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।’
জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জি এম কাদের বলেন, বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি অনুপস্থিত। আস্থাহীনতার কারণে জনগণ ও রাজনীতি আজ বিচ্ছিন্ন।
বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব আবদুল মান্নান বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাটা এখনকার চ্যালেঞ্জ। শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলনের মা সেলিনা আখতার বলেন, ‘গণতন্ত্র যে অবস্থায় এসেছে তা দেখে আমরা আশাহত হই, হতাশায় ভুগি।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, দেশের সংবিধান কাটাছেঁড়া করে এমন জায়গায় নেওয়া হয়েছে যে এটা সামনে রেখে সরকার যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।
দেশে অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করার কথা উল্লেখ করে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বেঞ্জামিন ডি কস্তা বলেন, সুশাসন না পেলে মানুষ অধিকার পায় না।
চা-চক্রে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন