* রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল তিন সপ্তাহ ধরে জলাতঙ্ক রোগের টিকাশূন্য * জেলার ব্যবসায়ীরা টিকার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে

কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে আসা সবারই এখন একই পরিণতি। এই হাসপাতালে তিন সপ্তাহ ধরে জলাতঙ্ক রোগের টিকা নেই। এ সুযোগে ওষুধ ব্যবসায়ীরা জলাতঙ্ক রোগের টিকার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মার্চে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ের শিকার মোট ৬৪১ জন এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম সপ্তাহে ২০০ জন, দ্বিতীয় সপ্তাহে ২৪৬ জন এবং তৃতীয় সপ্তাহে ১৯ মার্চ পর্যন্ত আসে মোট ১৯৫ জন। তাঁদের মধ্যে প্রথমবার সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা ছিল দুই শতাধিক।

রাজবাড়ী শহরের ধুঞ্চি এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসককে দেখান। কিন্তু চিকিৎসক তাঁকে বলে দেন, জলাতঙ্কের টিকা ফুরিয়ে গেছে। বাজার থেকে কিনতে হবে।

সদর হাসপাতালের স্টোরকিপার প্রবীর কুমার সেন বলেন, ঢাকা থেকে প্রতি মাসে সাধারণত জলাতঙ্কের ৫০টি টিকা পাঠানো হয়। এতে করে সেবা নিতে আসা সবাইকে তা দেওয়া সম্ভব হয় না। সম্প্রতি এ টিকার চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা (আরএমও) সুশীল কুমার রায়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জলাতঙ্কের টিকা না থাকার বিষয়ে ১৬ মার্চ ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছেন তাঁরা। আশা করছেন, কাল-পরশুর (আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার) মধ্যে ঢাকা থেকে টিকা চলে আসবে।

ফার্মেসিতে বেশি দাম

গোয়ালন্দ উপজেলার এখলাস শেখবলেন, ফার্মেসিতে তাঁর কাছ থেকে জলাতঙ্কের টিকার দাম রাখা হয় ৭০০ টাকা। হাসপাতালে ফেরার পর অন্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, এই টিকার দাম সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা।

সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়া এলাকার অহিদ মোল্লাও ৭০০ টাকা দিয়ে জলাতঙ্কের টিকা কিনেছেন। তিনি বলেন, দু-তিন আগেও এই টিকা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদর হাসপাতাল এলাকার সভাপতি শেখ আবদুল রউফ প্রথম আলোকে বলেন, মোড়কের গায়ে লেখা দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া অনৈতিক। কেউ যদি বেশি দাম রেখে থাকেন, তাহলে তিনি অন্যায় করেছেন। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন