default-image

রাজশাহীতে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কোভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ৩ মে থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ৫৫ দিনে জেলা ও মহানগর পুলিশ মিলিয়ে মোট ৬৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন জেলা পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন মাত্র তিনজন। সংক্রমণের এই ঝুঁকির মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা মাঠে থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

জেলা ও মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্চে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে রাজশাহীতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে নেমে পড়েন। শুরুতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণসহ মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কাজ করেছেন। রাজশাহীতে গত ১২ এপ্রিল করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তখন লকডাউন সফল করার জন্য পুলিশ রাতদিন মাঠে থেকে কাজ করেছে। ত্রাণ কার্যক্রমে থেকেছে তারা। মানুষকে নিরাপত্তার পাশাপাশি আইনি সহায়তাও দিতে হয়েছে। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি শেষ হলে মানুষ আবার অসচেতন হয়ে পড়েন। তখনো পুলিশ মাঠে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করানোর জন্য কাজ করেছে। এ ক্ষেত্রে শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থাসহ খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা হলেও পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।

রাজশাহী মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরে ১২টি থানাধীন পুলিশে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ জন। এর মধ্যে পাঁচজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য এবং চারজন পুলিশের সিভিল সদস্য। তাঁদের মধ্যে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২১ জন, বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে ১৭ জন ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই ৩৯ জনের মধ্যে কেউ এখনো সুস্থ হননি। এই ৩৯ জনের সংস্পর্শে আসা ২০৩ জন পুলিশ সদস্য এখন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।

রাজশাহী জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার নয়টি থানায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছেন ১৫ জন। পুলিশ হাসপাতালে পাঁচজন এবং পুলিশ লাইনসের আইসোলেশন সেন্টারে আছেন দুজন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসায় আরও ২০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত তিনজন সুস্থ হয়েছেন।

রাজশাহীতে গত ৩ মে প্রথম তানোর থানায় এক পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হন। এ পর্যন্ত মহানগর ও জেলা পুলিশের ৬৪ জন আক্রান্ত হলেও গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মাত্র ৩ জন।

রাজশাহী মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মো. গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তবু তাঁরা আগের মতোই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. ইফতে খায়ের আলম বলেন, শুরু থেকেই পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। তাঁদের খাদ্যাভ্যাস ও দায়িত্ব পালনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা যাতে সুরক্ষা সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করেন, রুটিনমাফিক চলেন, তা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন জেলা পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0