রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পর এক বৃদ্ধের (৮৪) করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত রোববার করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া ওই ব্যক্তি এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালে এসেছিলেন বলে তাঁর পরিবার দাবি করেছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে গিয়ে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। পরে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে করোনা পজিটিভ আসে।

আক্রান্ত ওই ব্যক্তির বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন। ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে (করোনা পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড) ভর্তি করেন। এরপর তাঁর এক্স-রে ও ইসিজি করার পর শারীরিক অবস্থা ভালো জানিয়ে গত ২১ এপ্রিল দুপুরে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন সেদিন তাঁকে বাড়ি নিয়ে যান।

এরপর ওই বৃদ্ধের জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে ২৫ এপ্রিল তাঁকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। ২৬ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ওই ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা লকডাউনের মধ্যে বাইরে যাননি। এমনকি বাইরের কোনো মানুষ তাঁদের বাড়িতে আসেননি। তাঁকে চিকিৎসার জন্য শুধু ১৯ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে ২৫ এপ্রিল তিনি আবার অসুস্থ হলে তাঁকে মোহনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা জাহিদ বলেন, ওই ব্যক্তি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সে অনুযায়ী এখানে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেদের নিরাপদ রেখেই রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। ওই রোগীর ক্ষেত্রেও তাই করেছেন। ওই রোগীকে এখন বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের বাড়ি লকডাউন করেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন ভালো।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত রোববার বাঘার এক ব্যক্তি (৮০) মারা যান। ১৮ এপ্রিল জ্বর ও প্রস্রাবের যন্ত্রণা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এক্স-রে করার পর করোনা সন্দেহ হলে চিকিৎসকেরা তাঁর নমুনা পরীক্ষা করেন। ওই ঘটনায় অনেক চিকিৎসক-নার্স তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাই পরবর্তী সময়ে তাঁদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে একই সময়ে চিকিৎসাধীন কোনো রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। পরের দিন ১৯ এপ্রিল ওই হাসপাতালে মোহনপুরের করোনা শনাক্ত এই বৃদ্ধ আসেন। তিনিও বাঘার ওই রোগীর মতো ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন।

হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, তিনি জেনেছেন যে ওই রোগী এখান থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তাঁরা দেখবেন ওই রোগীর সংস্পর্শে কারা কারা এসেছিলেন। তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

রাজশাহী জেলায় ১২ এপ্রিল প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। পরে ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে রাজশাহী জেলাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করা হয়। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মোট নয়জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন