বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রোববার সিটিটিসির দেওয়া প্রতিবেদনটি দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিন্নমতাবলম্বী ও ধর্মের মানুষকে, তাদের (রাজারবাগের পীর, তাঁর সহযোগী ও অনুসারী) ভাষায় ‘মালাউনদের’ হত্যা করা ইমানি দায়িত্ব উল্লেখ করে ফতোয়া দিয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কতল করার আদেশ দিয়েছে, যা মূলত বাংলাদেশের নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি ও আনসার আল ইসলামের মানুষ হত্যা করার ফতোয়ার অনুরূপ। এটি ইসলামের নামে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনসমূহের মতো একই প্রক্রিয়ায় বিরোধীদের অর্থাৎ ভিন্নধর্মাবলম্বীদের হত্যা করার ও ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করার কৌশল। তাদের এ ধরনের বক্তব্য মানুষকে জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত করবে, অসহিষ্ণু করবে, অসাম্প্রদায়িক চেতনা নষ্ট করতে ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্বিক পর্যালোচনায় সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে তারা এখনো জঙ্গি সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত না হলেও তাদের বিভিন্ন প্রকাশনা, বক্তব্য, মুরীদ ও অনুসারীদের প্রতি তাদের নির্দেশনার ফলে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের এসব বক্তব্য ও প্রচার-প্রচারণা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের ‘লোন উলফ’ হামলায় উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

শুনানি নিয়ে আদালত বলেন, সিআইডি, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট বা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চাইলে তদন্তের স্বার্থে ও প্রয়োজন মনে করলে তাদের (পীর ও সহযোগী) দেশত্যাগ বা বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে।

দেশের ৬টি জেলায় পৃথক ৩৪টি মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ এনে রাজারবাগের পীর ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে আট ব্যক্তি হাইকোর্টে একটি রিট করেন। এ ছাড়া ধর্ষণ, মারধর, চুরি, মানব পাচারসহ নানা অভিযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় করা ৪৯ মামলার চক্করে পড়ে রাজধানীর শান্তিবাগের বাসিন্দা ব্যবসায়ী একরামুল আহসান আরেকটি রিট করেন। পৃথক দুটি রিট শুনানির জন্য গতকাল কার্যতালিকায় ওঠে। আদালতে আট ব্যক্তির পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং একরামুলের পক্ষে আইনজীবী এমাদুল হক বশির শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও দুদকের পক্ষে আইনজীবী জাহিদ হোসেন শুনানিতে অংশ নেন।