বিজ্ঞাপন

কথা হচ্ছিল শাহিওয়াল ও অস্ট্রেলিয়ান ক্রস ব্রিডিং জাতের একটি ষাঁড়কে নিয়ে। এর মালিক হলেন বেড়া পৌর এলাকার শম্ভুপুর মহল্লার মো. খলিল। সন্তানের মতো লালনপালন করা ষাঁড়টির তিনি নাম রেখেছেন ‘রাজা’।

খলিল আক্ষেপ করে জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে বাড়ি থেকেই রাজাকে ২০ লাখ টাকার কাছাকাছি দামে বিক্রি করা যেত। অথচ তিনি ১৬ লাখ টাকা দাম চেয়েও সাড়া পাচ্ছেন না। তবে করোনার কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হওয়ার আগে ১০ লাখ পর্যন্ত এর দাম উঠেছিল।

খলিল বলেন, ‘আমার রাজা গায়েগতরে বিশালদেহী হলেও আচরণে একেবারেই শান্ত। এই এলাকায় ওর মতো এত বড় গরু আর নেই। এবারের বিধিনিষেধ শুরুর আগে ব্যাপারীসহ কতজনই না আমার রাজাকে দেখতে আসতেন, দরদাম করতেন। অথচ এখন ব্যাপারীরা খোঁজও নিচ্ছেন না। তাই দুশ্চিন্তার মধ্যেই ওকে নিয়ে ঢাকার হাটে যাচ্ছি।’

খলিলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই বছর আগে স্থানীয় একটি খামার থেকে ৮৬ হাজার টাকায় কিনে এনে তিনি গরুটিকে লালনপালন শুরু করেন। শুরুতে খাবার খরচ কম লাগলেও এখন প্রতিদিন ওর পেছনে এই বাবদ প্রায় এক হাজার টাকা করে খরচ হয়। সব মিলিয়ে গত দুই বছরে রাজার পেছনে খাবার বাবদ তাঁর তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে তিনি জানান।

খলিলের ষাঁড়টির মতো পাবনার বেড়া উপজেলায় বিশালদেহী কিছু গরু রয়েছে। এসব গরুর সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন পালনকারীরা। কারণ, কঠোর বিধিনিষেধ শুরুর পর থেকেই এসব গরুর দাম ও কদর কমে গেছে।

গরু পালনকারীরা জানান, প্রতিবছর কোরবানির পশুর হাট শুরুর আগে উপজেলার বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরু কিনে থাকেন ব্যাপারীরা। এবারও দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে কোরবানির গরু কেনা শুরু করেছিলেন। পালনকারীরা দামও ভালোই পাচ্ছিলেন। কিন্তু কঠোর বিধিনিষেধ শুরুর পর থেকে ব্যাপারীদের দেখা নেই বললেই চলে। স্থানীয় পশুহাটে গরু নিয়েও বিক্রি করা যাচ্ছে না।

পশুহাট সাঁথিয়ার করমজা হাটের ইজারাদার মিজানুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) হাটে প্রচুর গরু উঠলেও অর্ধেকের বেশি গরু ফেরত গেছে। এর মধ্যে বৃহৎ আকারের গরুর ক্রেতা ছিলেন না বললেই চলে।

বেড়া পৌর এলাকার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খামারি মাহফুজা মীনা জানান, এবারের কোরবানির হাট সামনে রেখে ১৫টি গরু পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজা ও বাদশাহ নামের দুটি গরু বিশালদেহী। রাজার ওজন ২৫ ও বাদশাহর ওজন ২৪ মণের কাছাকাছি। এক-দেড় মাস আগে থেকেই তাঁর খামারে ব্যাপারীরা গিয়ে অন্যান্য গরুসহ রাজা ও বাদশাহর দরদাম করছিলেন। তখন রাজা ও বাদশাহর একসঙ্গে সাড়ে ৯ লাখ টাকা দামও উঠেছিল। অথচ কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হতেই ব্যাপারীদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত আজ (১৪ জুলাই) ঢাকার এক ব্যাপারীর কাছে সাড়ে সাত লাখ টাকায় রাজা-বাদশাহকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

মাহফুজা মীনা বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে রাজা-বাদশাহকে অন্তত ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করতে যেত। তাই সাড়ে ৯ লাখ টাকা দাম ওঠার পরেও বিক্রি করিনি। অথচ এখন মাত্র সাড়ে সাত লাখেই ওদেরকে বেচতে হলো।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন