বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জরিপে দেখা গেছে, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে পরিচালিত জরিপে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পর্যায়ক্রমে উন্নতি পরিলক্ষিত হলেও এ বছর অবনতি ঘটেছে। দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের ৩৩ শতাংশের অবস্থা প্রায় স্থিতিশীল এবং ১০ দশমিক ৫ শতাংশের অবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল, জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গত বছর দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের মানসিক অবস্থা কিছুটা ভালো থাকলেও এ বছর তাঁদের অবনতি হয়েছে। গত বছর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শ্রমিক মানসিক ট্রমায় ছিলেন। এ বছর সেটা বেড়ে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অপর দিকে ৩১ শতাংশ শ্রমিক বলেছেন, তাঁদের মানসিক অবস্থা প্রায় স্থিতিশীল এবং ২০ দশমিক ৫ শতাংশ সম্পূর্ণ স্থিতিশীল।

রানা প্লাজায় দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের মধ্যে বেকারত্বের হার তুলনামূলক বেশি। তাঁদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানে যুক্ত হলেও ৫৩ শতাংশ শ্রমিক এখনো বেকার। তাঁদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ বলেছেন, শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাঁরা কাজ করতে পারেন না এবং ১০ শতাংশ এখনো মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন।

আহত শ্রমিকদের মধ্যে ঘন ঘন কাজ পরিবর্তন করার প্রবণতাও দেখা গেছে। কারণ হিসেবে শারীরিক সীমাবদ্ধতার জন্য দীর্ঘ সময় একই ধরনের কাজ করার অক্ষমতার বিষয়টি উঠে এসেছে জরিপে।

জরিপ অনুসারে, শ্রমিকদের অনেকেই পুরো পেশা পাল্টে গৃহকর্ম, দিনমজুরি, কৃষিকাজ, বিক্রয় এবং গাড়ি চালানোর মতো পেশায় যুক্ত হয়েছেন। মাত্র ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ তাঁদের আদি পেশা তৈরি পোশাক কারখানায় ফিরে গেছেন। ৮ শতাংশ কাপড় সেলাই বা টেইলারিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছেন।

করোনা মহামারির প্রভাবে বেশির ভাগ শ্রমিকের আয় ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। জরিপের তথ্য বলছে, ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ শ্রমিক বলেছেন, মহামারি চলাকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তাঁদের কাছে ছিল না। এর ফলে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ শ্রমিক নিয়মিত বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে পারেননি। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, অর্থাভাবে তাঁরা সন্তানের সঠিক যত্ন নিতে পারেননি।

হামারিকালে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ শ্রমিক পরিবারের খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ঋণ করেছেন।

জরিপের তথ্যমতে, দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ৩৬ শতাংশের পারিবারিক আয় ৫ হাজার টাকার কম। ৩৪ শতাংশের পারিবারিক আয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। ৩৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের মাসিক খরচ ১০ হাজার টাকার বেশি। ৩০ শতাংশের খরচ ১৫ হাজার টাকার বেশি। যার অধিকাংশই খরচ হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়, বাসাভাড়া, সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন