default-image

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে, এটা নিশ্চিত জেনে আমরা সুন্দরবন রক্ষার জন্য আন্দোলন করছি। কিন্তু রামপাল প্রকল্প নিয়ে ১০টি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলীকে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিলিয়া মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন।
সুন্দরবন নিয়ে ‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি’—এমন মন্তব্যের বিষয়ে তাঁদের মতামত জানতে চান সাংবাদিকেরা। সুলতানা কামাল বলেন, ‘এই ধরনের কথা সংবিধানবিরোধী। কারণ, সংবিধানে বাংলাদেশের সবার সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সুন্দরবন বাংলাদেশের সব মানুষের সম্পত্তি। তাই এ নিয়ে কথা বলার অধিকার আমাদের আছে। তিনি যে ১০টি প্রশ্ন করেছেন এবং রামপাল প্রকল্প কর্তৃপক্ষ যে উত্তর দিয়েছে, তা অর্ধসত্য ও ভুল। অপ্রাসঙ্গিক, বিভ্রান্তিকর ও পরিবেশ সমীক্ষা প্রতিবেদনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার যে জবাব দিয়েছে, তা অবৈজ্ঞানিক ও অপর্যাপ্ততাভিত্তিক।’

আপনাদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সরকারের পক্ষ থেকে নানা পাল্টা যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, এর সমাধান কোথায়—এমন প্রশ্নে সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমাদের কথাগুলো তুলে ধরতে হবে। যেমন আমরা একসময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি তুলেছিলাম। তখন এ নিয়ে কথা বলা অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পেরেছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সংগ্রামী জীবন, রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তো কোনো প্রশ্ন তুলছি না। বরং আমরা তাঁর অবস্থানকে সম্মান করি। সুন্দরবন নিয়ে আমরা আমাদের মতগুলো তুলে ধরছি।’

সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষে তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এ সরকার ঢাকার চারপাশে নদীগুলো রক্ষা করতে পারছে না। ছোটখাটো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তারা সুন্দরবন কীভাবে রক্ষা করবে? সুন্দরবন রক্ষার ব্যাপারে আমরা কীভাবে তাদের ওপর আস্থা রাখব—সে প্রশ্ন তো আমরা করতেই পারি। যে ডাক্তার ছোটখাটো অপারেশন করতে গিয়ে রোগী মেরে ফেলেন, সেই ডাক্তার জটিল অপারেশন করে রোগী সুস্থ করে ফেলবেন—এমন আস্থা তো আমরা রাখতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ভারতের সাধারণ জনগণ ও বিশেষজ্ঞরাও রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি স্বীকার করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। কিন্তু ভারতীয় কোম্পানি এ প্রকল্পের মাধ্যমে সুন্দরবন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাই এ প্রকল্প হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শত্রুতা চিরস্থায়ী হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘রামপাল প্রকল্পে সুন্দরবনের ক্ষতি বিষয়ে আমরা বিভিন্ন সময়ে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছি। কিন্তু কই, আমাদের প্রশ্ন নিয়ে সরকারের তো কোনো আলোচনা দেখিনি। এক প্রবাসী প্রকৌশলী যে ১০টি প্রশ্ন তুললেন, সঙ্গে সঙ্গে রামপাল প্রকল্প কর্তৃপক্ষ থেকে ওই ১০ প্রশ্নের জবাব দিয়ে বলা হলো যে তারা ওই ১০ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকল্প তৈরি করবে। আর সরকার থেকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হলো। এই পুরো ঘটনাটি আমার কাছে সাজানো নাটক বলে মনে হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ওই ১০টি প্রশ্ন বিষয়ে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষে শরীফ জামিল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0