default-image

‘কী রায় হয়, তা দেখার জন্য আমি টিভিতে চোখ রেখে বসেছিলাম। রায় হওয়ার খবর দেখে দুই রাকাত শোকরিয়া নামাজ আদায় করেছি। বিচারে যে রায় হয়েছে, তাতে আমরা খুশি। তবে আমাদের প্রত্যাশা ছিল ১৩ জনেরই ফাঁসি হবে। এখন আমাদের একটাই চাওয়া, ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হোক। তা ছাড়া যেসব আসামি পলাতক রয়েছে, তাদেরও খুঁজে বের করে ফাঁসি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। এতটুকু দেখে যেতে পারলে মরেও শান্তি পাব।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলার রায়ের বিষয়ে আজ রোববার প্রথম আলোর কাছে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান তাঁর মা হাসিনা বেগম।

আজ দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের মদিনাবাগ এলাকার বাসায় কথা হয় জুবায়েরের মা-বাবার সঙ্গে। প্রিয় সন্তানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জুবায়েরের মা-বাবা দুজনই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জুবায়েরের মা গৃহিণী এবং বাবা তোফায়েল আহমেদ নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। মামলার রায় কী হবে, তা ভেবে ভেবে দুজনই কয়েক দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে আজ সকালে তাঁরা বাসায় ফিরেছেন।

জুবায়েরের মা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার ছেলে বলত, ও বড় হয়ে পড়াশোনা শেষ করে বাবা-মায়ের জন্য সবকিছু করবে। আমাদেরও কত যে আশা ছিল, কত যে স্বপ্ন ছিল, তা আর পূরণ হলো না। সন্ত্রাসীরা তা পূরণ করতে দিল না।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমার দুটি ছেলে ছিল। ওরা ছিল আমার সংসারের প্রদীপ। আমার একটি প্রদীপ অকালে নিভে গেছে। বেঁচে থাকা একটি প্রদীপ আর জুবায়েরের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। যখন ঘুমাতে যাই, তখনই ওর কথা মনে পড়ে। ছেলের শোকে এখনো ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। আমি বলতে চাই, আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যেন কেবল পড়াশোনার জায়গা হয়। এখানে যেন মেধার প্রতিযোগিতা হয়। সরকারের কাছে তাই একটাই চাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস বন্ধ করুন। পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করুন।

জুবায়েরের বড় ভাই সিলেটের লিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। তবে উচ্চ আদালত থেকে আপিল করে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন হওয়া আসামিরা যাতে ছাড়া না পায়, অথবা কোনো ধরনের প্রভাব খাটিয়ে আসামিরা যাতে বের হয়ে যেতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই। তা ছাড়া আমরা রায়ের পরবর্তী করণীয় নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন