মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বারের ফাঁসির দাবিতে মঠবাড়িয়া শহরে মিছিল করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আবদুল জব্বারের বয়স বিবেচনা করে তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এ রায়ে হতাশ শহীদ পরিবারের সদস্য ও মামলার সাক্ষীরাও।

আবদুল জব্বার পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের খেতাছিড়া গ্রামের ছাদেম আলীর ছেলে। তাঁর জন্ম ১৯৩২ সালের ৩০ নভেম্বর।

রায় ঘোষণার পর উপজেলার ফুলঝুড়ি গ্রামের শহীদ মোতালেব শরিফের ভাই ও মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মোজাম্মেল শরিফ বলেন, ‘আমরা জব্বারের ফাঁসি চেয়েছিলাম। তাঁর আমৃত্যু কারাদণ্ডে আমরা খুশি না।’

মামলার আরেক সাক্ষী সিপিবির পিরোজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার পাইক বলেন, ‘আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে পাকসেনা ও রাজাকাররা উপজেলার ফুলঝুড়ি গ্রামে হামলা, লুট ও ৩৬০ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আমরা ট্রাইব্যুনালে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিলাম। আমরা আশা করব রাষ্ট্রপক্ষÿতার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য ট্রাইব্যুনালে আপিল করবে।’ তিনি আবদুল জব্বারকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবি জানান।

শহীদ মধুসূধন হালদারের ছেলে পরিমল হালদার বলেন, ‘জব্বারের নির্দেশে রাজাকাররা আমার বাবাসহ ২২ জনকে সূর্যমণি বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করে। আমরা তার ফাঁসি চেয়েছিলাম। আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ে আমরা ব্যথিত হয়েছি।’

মঠবাড়িয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বাচ্চু মিয়া আকন বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প‌ক্ষের শক্তি এ রায় মেনে নিতে পারি না। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জব্বারের নেতৃত্বে মঠবাড়িয়ায় যেভাবে তাণ্ডব চালিয়ে মানুষ হত্যা, লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল, তাতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। তার পরও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ কারণে দাবি করব আপিলে যেন তার সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন