সরকারি দলের সংসদ সদস্য শফিউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন খাদ্যশস্যের সঙ্গে গম ও আটার দাম বেড়ে যাওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গম আমদানির জন্য বিভিন্ন রপ্তানিকারক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে রাশিয়া দুই লাখ টন গম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া ভারত থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গম আমদানির লক্ষ্যে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রাক্কলিত খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদনের পরিমাণ ৪০১ দশমিক ৩৬ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ৩৮৯ দশমিক ১০ লাখ মেট্রিক টন এবং গম ১২ দশমিক ২৬ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা জরিপ অনুযায়ী, মানুষের দৈনিক গড় খাদ্যশস্য গ্রহণের পরিমাণ ৩৮৭ গ্রাম। চাল ৩৬৭ দশমিক ২ গ্রাম এবং গম ১৯ দশমিক ৮ গ্রাম।

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৩ (প্রাক্কলিত) লাখ হলে মোট খাদ্যশস্যের প্রয়োজন ছিল ২৩৯ দশমিক ১৪ লাখ মেট্রিক টন (চাল ২২৬ দশমিক ৯০ লাখ মেট্রিক টন এবং গম ১২ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন) যা ২০২০-২১ অর্থবছরের খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদনের তুলনায় কম। আবার দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ বিবেচনায় ২০২২ সালের ১ জানুয়ারিতে দেশের মোট জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ কোটি ৫৩ (প্রাক্কলিত) লাখ। সে হিসাবে ২০২১-২২ অর্থবছরের দেশে খাদ্যশস্যের মোট চাহিদা হবে ২৪২ দশমিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন। তা–ও অর্থবছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম; সুতরাং চাহিদা অনুযায়ী দেশে খাদ্যশস্যের ঘাটতি নেই।

খাদ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে ২০ জুন সর্বমোট ১৫ লাখ ২১ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত ছিল। খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্যের মজুত আরও বৃদ্ধির জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ২০ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান আছে এবং বৈদেশিক উৎস থেকেও গম আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন