জাকির হোসেন হাঁটুভাঙ্গা গ্রামের মেঝেরকান্দি এলাকার মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে বিদ্যুতিক সমস্যা দেখা দিলে তিনি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের হয়ে মেরামত করতেন।

জাকিরের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাকির হাঁটুভাঙ্গা এলাকায় একটি বৈদ্যুতিক মোটর মেরামত করতে গিয়েছিলেন। ওই কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে গ্রামের স্থানীয় বাজারটিতে ফেরেন তিনি। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদ মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে ওই বাজারের একটি দোকানে বসে চা পান করেন। পরে রাত আটটার দিকে তিনি তাঁদের রেখে চলে আসেন। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি কাঁকরোলখেতসংলগ্ন পুকুরপাড়ে জাকিরের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে খবর পাঠানো হলে তাঁরা ওই পুকুরপাড়ে যান। খবর পেয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ঘটনাস্থলে যান এবং তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

জাকিরের ছেলে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল বলে আমাদের জানা নেই। তবে তাঁর মাথা ও চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি আমরা। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

ইউপি সদস্য আসাদ মিয়া বলেন, ‘প্রায় দিনের মতো গতকাল রাতেও আমরা একসঙ্গে চা পান করেছিলাম। পরে বাড়িতে চলে যাওয়ার কথা বলে সে আমাদের কাছ থেকে চলে গিয়েছিল। আজ দুপুরে একটি পুকুরপাড়ে তাঁর লাশ পড়ে থাকার খবর পাই। কীভাবে কী হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না। তাঁর উঠে চলে যাওয়ার সময় কেউ তাঁকে ডেকেও নেয়নি, ফোনও করেনি।’


রায়পুরা থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘জাকিরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির সার্বিক দিক মাথায় রেখে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এই বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।’