default-image

মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি মোহাম্মদ রায়হান কবিরকে (২৫) মুক্তি দিতে এবং তাঁর কার্যানুমতি পুনর্বহাল করার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি গতকাল বুধবার বলেছে, এটা পরিষ্কার যে আল–জাজিরায় সাক্ষাৎকারে অভিবাসীদের নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের নীতির সমালোচনা করার প্রতিশোধ নিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২৪ জুলাই মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করে। দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক ঘোষণা দেন, তাঁকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং তিনি যাতে আর কখনো মালয়েশিয়ায় আসতে না পারেন, সে জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।

তবে রায়হানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে কি না, তা পরিষ্কার নয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরডব্লিউর এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, ‘রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ সব অভিবাসী কর্মীদের প্রতি এ উদ্বেগের বার্তা পাঠাল যে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে কথা বললে বাছবিচার ছাড়াই গ্রেপ্তার, দেশে জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তন ও কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন তাঁরা। কোনো তথ্যচিত্রের সূত্রে গ্রেপ্তার করার ওই ঘটনা মালয়েশিয়ায় স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ভয়ানক আঘাত।

কোভিড–১৯ মহামারিতে লকডাউন চলাকালে মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি দেশটির নেতিবাচক আচরণের কথা তুলে ধরে আল–জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলের এক তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেন রায়হান কবির। তথ্যচিত্রটি ৩ জুলাই প্রচার করা হয়। এ ঘটনায় রায়হান ছাড়াও কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেলটিকে নিশানা করেছে মালয়েশিয়া সরকার। তাঁর ও চ্যানেলটির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং মানহানির মামলা করা ছাড়াও যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হতে পারে।

গ্রেপ্তার হওয়ার দিন রায়হান একজন সাংবাদিককে লিখেছিলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তিনি মিথ্যা বলেননি। তিনি অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্যের কথাই শুধু বলেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0