বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে বাসচাপায় পা হারানো রাসেল সরকারের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে হাইকোর্টের একই বেঞ্চে শুনানি শেষ হয় গত ৫ মার্চ। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সেদিন ১৫ এপ্রিল রায়ের জন্য দিন রাখেন। করোনো পরিস্থিতিতে আদালতে ছুটি থাকায় রায় হয়নি। এরপর সংশ্লিষ্ট দ্বৈত বেঞ্চ পুনর্গঠন ও বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার পরিবর্তন হওয়ায় এখন কবে রায় হবে, তা সামনে এসেছে।

আদালত–সংশ্লিষ্ট ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেঞ্চ পুনর্গঠন বা বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার পরিবর্তন হলে রায়ের পর্যায়ে থাকা মামলাগুলোর তালিকা তৈরি করা হয় সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ থেকে। এরপর বেঞ্চ থেকে প্রধান বিচারপতির কাছে অনুমতির জন্য পাঠানো হয়। এতে বেঞ্চের বিচারক কবে বসবেন ও শুনবেন, তা উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এতে প্রধান বিচারপতি সম্মতির পর এ ধরনের মামলা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে ওঠে ও নিষ্পত্তি হয়ে থাকে।

৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে: ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না…’ শিরোনামে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি প্রথম আলোয় প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আনা হলে সেদিন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন। রুলে সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের করা ৩৩ মামলায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা নিরপরাধ জাহালমকে মুক্তি দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নিষ্ক্রিয়তা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। জাহালমকে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা–ও রুলে জানতে চাওয়া হয়। আদালতের নির্দেশে গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম। হাইকোর্টে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে এর আগে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে আদালতেও ছুটি চলে। গত ১২ মে থেকে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়। প্রায় দুই মাস হাইকোর্টের কয়েকটি বেঞ্চে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ চলে, যার মধ্যে ওই দ্বৈত বেঞ্চ ছিলেন না। আর গত ১০ আগস্ট প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে ভার্চ্যুয়াল ও শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য পৃথক বেঞ্চ গঠন করে দেন, যা ১২ আগস্ট থেকে কার্যক্রম শুরু করেন। বেঞ্চ পুনর্গঠন–সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ওই দ্বৈত বেঞ্চ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার পরিবর্তন হয়েছে।

জাহালমকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে এনেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত, যিনি এখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি কর্তৃক বেঞ্চটি পুনর্গঠন করে দেওয়া হলে মামলাটি রায়ের জন্য যাবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন