default-image

রায়ের নির্যাসটা ইতিবাচক। তবে পুরো রায় তো আমাদের কাছে নেই। রায়টা যদি ৫০ পৃষ্ঠার হয়, এখন প্রচারিত হচ্ছে এক লাইন। এর আগে–পরে নিশ্চয়ই অনেক কথা আছে। পুরো রায় পড়লে বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা করে তখন একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। এখন যেহেতু পুরো রায় পড়ে পর্যালোচনার সুযোগ ঘটেনি, তাই এখন যেটা বলব, একটা ধোঁয়াশা আছে। ধোঁয়াশাটা হলো, এখন মনে হচ্ছে হিন্দু বিধবা নারীরা কখনো মালিক হতেন না। এটা কিন্তু ঠিক না। অবশ্যই হতেন। কখন? যদি পুত্র না থাকে। অথবা পুত্রের অবর্তমানে পুত্রহীন বিধবা নারী কৃষি হোক, অকৃষি হোক পূর্ণাঙ্গ মালিকানা তাঁর।

বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশরা হিন্দু বিধবাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার ঠিক করার জন্যই ‘হিন্দু উইমেন্স রাইটস টু প্রোপার্টি অ্যাক্ট ১৯৩৭’ আইন করেছিল। এই আইন ভারতের অনেক রাজ্যে চালু আছে মিতাক্ষরা আইন (কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো আইন যদি রাজ্য সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করে) হিসেবে। আইনটি আসামেও বলবৎ আছে। কিন্তু ব্রিটিশ আমলে বাংলার প্রাদেশিক সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের অনুকরণে এটি করেনি। না করার ফলে ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত বাংলায় এটি গৃহীত হয়নি। পাকিস্তানের সৃষ্টি হলো। তখন এখানে যেটা প্রচলতি ছিল, সেটা দায়ভাগ আইন। দায়ভাগে পিণ্ড (মৃতের পারলৌকিক শান্তির জন্য উৎসর্গিত কিছু) যিনি দান করেন তিনি হন সম্পত্তির মালিক। পিণ্ডদানের অধিকারী ছেলে। সেখানে জীবনস্বত্বে স্বামীর সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারেন বিধবা স্ত্রী। কিন্তু তাঁকে আবার সেই সম্পত্তি বিক্রি করতে হলে কিছু প্রয়োজনীয় কারণ দেখাতে হতো। সেই অর্থে স্ত্রীর মালিকানা শর্তাধীনও ছিল। কিন্তু পুত্র থাকলে সম্পত্তির মালিকানা চলে যেত পুত্রের কাছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর হিন্দু উইমেন্স রাইটস টু প্রোপার্টি অ্যাক্ট ১৯৩৭ গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা কার্যকর হয়নি। কাল রায়ে যে নজির তৈরি হলো, তা সেই অর্থে অবশ্যই ইতিবাচক ও যুগান্তকারী। এত দিন পর আদালতের রায় আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। এখন এই নজিরকে আইনে পরিণত করতে হবে। আর বিদ্যমান যে আইন আছে, তা খতিয়ে দেখে এখন আইনটিকে সংশোধন করতে হবে।

লেখক, আইনজীবী ও সাধারণ সম্পাদক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন