মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ আবদুল জব্বারের আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশের রায়ে হতাশা জানিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, জব্বারের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাশা করেছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রায় ঘোষণার পর জব্বারের ফাঁসির দাবিতে মঠবাড়িয়া উপজেলা সদরে মিছিল করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় উপজেলার ফুলঝুড়ি গ্রামের শহীদ মোতালেব শরিফের ভাই ও এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মোজাম্মেল শরিফ বলেন, ‘আমরা জব্বারের ফাঁসি চেয়েছিলাম। তাঁর আমৃত্যু কারাদণ্ডে আমরা খুশি না।’
রাষ্ট্রপক্ষের আরেক সাক্ষী সিপিবির পিরোজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার পাইক বলেন, ‘আমরা আশা করব রাষ্ট্রপক্ষ জব্বারের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আপিল করবে।’ তিনি জব্বারকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবি জানান।
জব্বার পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সাবেক সাংসদ। তাঁর বাড়ি উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের খেতাছিড়া গ্রামে।
শহীদ মধুসূধন হালদারের ছেলে পরিমল হালদার বলেন, ‘জব্বারের নির্দেশে রাজাকাররা আমার বাবাসহ ২২ জনকে সূর্যমণি বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করে। আমরা আশা করেছিলাম, তাঁর ফাঁসি হবে। আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ে আমরা হতাশ হয়েছি।’
রায়ে হতাশা প্রকাশ করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বাচ্চু মিয়া আকনও।
জব্বারের গ্রামের বাড়িতে তাঁর পরিবারের কেউ থাকেন না। বাড়ির একাংশ বলেশ্বর নদে বিলীন হয়ে গেছে। জব্বারের পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানান, জব্বারের এক মেয়ে ও এক ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তাঁর ছোট ছেলে জসিম বাবুর মুঠোফোনে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন