default-image

জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থা মোকাবিলায় কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক সংগঠন রিজলভের গবেষণা উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের ড. মোবাশ্বার হাসান। চলতি সপ্তাহে ৪৪ সদস্যের ওই উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির কাজ হচ্ছে বিশ্বের জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থা নিয়ে হওয়া গবেষণাগুলোকে নীতি সহায়তা, পরামর্শ ও মূল্যায়ন করা। এ ছাড়া জঙ্গিবাদবিষয়ক গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটির সমাধানে ভূমিকা রাখাও তাদের কাজ।

বিশ্বের ৩০টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এই নেটওয়ার্কের সদস্য হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স স্টাডিজ এর সদস্য হিসেবে রয়েছে। ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিস, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনেক গবেষণা ও নীতি সহায়তা প্রতিষ্ঠান এর সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড স্টেট ইনস্টিটিউট অব পিস এর সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। রিজলভ নেটওয়ার্কের প্রধান কার্যালয়ও ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অবস্থিত।

বিজ্ঞাপন

ড. মোবাশ্বার এক যুগ ধরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চরমপন্থার উত্থান ও গতিপ্রকৃতি, রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ও রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে ১২টি গবেষণা প্রবন্ধ, ৩টি বই ও একাধিক বইয়ের অধ্যায় লিখেছেন। তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনির অ্যাডজাস্ট রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে তিনি নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ভাষা ও সংস্কৃতিতত্ত্ব বিভাগের গবেষণা ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন।

নতুন ওই দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে মোবাশ্বার হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে চরমপন্থা ও ধর্মীয় উগ্রবাদের একটি উত্থান আমরা অনেক বছর ধরে দেখতে পাচ্ছি। এ ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে এর গতিপ্রকৃতি ও উৎসগুলো বোঝা জরুরি। আমি আমার দায়িত্বের অংশ হিসেবে এ–বিষয়ক গবেষণাগুলো যাতে নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেই চেষ্টা করব।’

বিজ্ঞাপন

মোবাশ্বার হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে কয়েক বছর সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্যের ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেকবার স্নাতকোত্তর ও অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। পেশাগত জীবনে তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফাম, ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ওই গবেষণা উপদেষ্টা কাউন্সিলে মোবাশ্বারই একমাত্র বাংলাদেশি। অন্য সদস্যদের মধ্যে ন্যাটোর কাউন্টার টেররিজমের প্রধান জুলিয়েট বার্ড, জেনেভা সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসির কাউন্টার টেররিজম ও অর্গানাইজড ক্রাইমের প্রধান ক্রিস্টিনা লিইয়াং, লন্ডনের কিংস কলেজের সিরাজ মাহের অন্যতম।

প্রথমা প্রকাশন থেকে ড. মোবাশ্বার হাসানের ‘নেরেটিভস অব বাংলাদেশ: কালচার, হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের ব্যান্ড সংস্কৃতি, সংগীত ও রাজনীতি নিয়ে প্রথম আলোতে নিয়মিত কলাম লেখেন।

মন্তব্য পড়ুন 0