রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সব আসামির রিমান্ড শেষ হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কোনো আসামিই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। তবে তাঁদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের দিন গত ২৩ এপ্রিল রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফিজুর রহমানকে। চার দিনের রিমান্ড শেষে ১ মে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাঁর কাছ থেকে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কোনো তথ্য পায়নি। তবে তদন্ত কর্মকর্তা তখন বলেছিলেন, হাফিজুরের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো তাঁরা যাচাই-বাছাই করে দেখছেন।
হাফিজুরকে গ্রেপ্তারের পরের দিন ২৪ এপ্রিল বাগমারার দরগামাড়িয়া গ্রামের মসজিদের ইমাম রায়হান আলী ও মতিহার থানাধীন ললিতাহার এলাকার যুবক খায়রুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ২৮ এপ্রিল তাঁদের আদালতে সোপর্দ করে চার দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ২ মে আদালত তাঁদের প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত বৃহস্পতিবার রিমান্ড শেষে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাঁরাও এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোনো স্বীকারোক্তি দেননি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী মহানগর পুলিশের পরিদর্শক রেজাউস সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আসামিদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার না করলেও তাঁদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ তা নিয়ে কাজ করছে।
এদিকে ২৭ এপ্রিল বাগমারা থেকে পুলিশ অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আবদুল হাকিম ও তাঁর ছেলে আরিফুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল। পাঁচ দিন ধরে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আটক রেখে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত সোমবার তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নগরের শালবাগান এলাকায় নিজ বাসার সামনে শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিন রাতে তাঁর ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন