default-image

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে মারা যান বেসরকারি একাত্তর টেলিভিশনের সহযোগী প্রযোজক রিফাত সুলতানা (৩০)। সেদিন সকালেই তিনি এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। এই মেয়ে পেটে থাকতে রিফাত অনাগত সন্তানকে টুকি বলে ডাকতেন। সেই টুকি এখন বেশ ভালো আছে। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে দিন কাটছে তার। নবজাতকদের বিশেষ আইসিইউতে তাকে রাখতে হচ্ছে না। নল দিয়েও খেতে হচ্ছে না। তবে সংক্রমণ থাকায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছে না টুকি।

রিফাতের আড়াই বছর বয়সী যমজ সন্তান রুদ্র আর ধ্রুব এখনো জানে, তাদের মাম্মাম ব্যথা পেয়েছে। ব্যথা ভালো করার জন্য হাসপাতালে মাম্মাম গেছে ইনজেকশন নিতে। ভালো হলেই মাম্মাম বাড়ি ফিরবে। রাজধানীতে নানার বাসায় রুদ্র আর ধ্রুবর সারা দিন আনন্দেই কাটে। রাত হলে শুধু মায়ের জন্য মন খারাপ লাগে তাদের।

রুদ্র, ধ্রুব আর টুকির খবর দিলেন রিফাত সুলতানার বোন রুখসাত সুলতানা। রুদ্র আর ধ্রুব আগে থেকেই রুখসাত সুলতানাকে আম্মু ডাকে। রুখসাতের আরেক বোন রাকিবা সুলতানাও রুদ্র আর ধ্রুবর প্রিয়।

রিফাত সুলতানার স্বামী নাজমুল ইসলামের মা করোনা পজিটিভ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেলে মারা যান। আর বাবা বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি। ফলে নাজমুলকে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তারপরও যেটুকু সময় পান বাবা নাজমুল দুই ছেলের খোঁজখবর রাখছেন বলে জানান রুখসাত সুলতানা। তিনি বলেন, ওই পরিবারের অন্য সদস্যরাও খোঁজখবর নিচ্ছেন। ফলে রিফাত সুলতানার দুই ছেলেকে সামলানো খুব একটা কঠিন হচ্ছে না। শুধু তাদের মায়ের প্রসঙ্গ, হাসপাতাল—এ ধরনের বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হয় ওদের সামনে।

রুখসাত সুলতানা বললেন, রিফাতসহ তাঁরা তিন বোন। তবে রিফাত ও নাজমুল ইসলামের সাবেক সহকর্মী সাবরিনা খানমকে আগে থেকেই তাঁরা বোন হিসেবেই পরিচয় দিতেন। রুখসাত বললেন, ‘আমরা আগে চার বোন ছিলাম, এখন আছি তিন বোন। সাবরিনা খানম টুকির হাসপাতালের খোঁজখবর রাখেন। রিফাত আপু তো টুকিকে তাঁর কাছেই রেখে গেছেন। আর বাসায় আমরা দুই বোন রুদ্র আর ধ্রুবকে দেখে রাখছি। ওরা এখন আগের থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক আচরণ করছে। রাত হলে শুধু একটু বিরক্ত করে।’

বিজ্ঞাপন

রিফাত সুলতানা ও তিনি নিজে একই সঙ্গে করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন বলে জানালেন রুখসাত। বলেন, করোনা পজিটিভ এলেও তাঁর (রুখসাত) শারীরিক তেমন কোনো জটিলতা ছিল না। আর চোখের সামনে রিফাত শুধু একটু অক্সিজেনের জন্য বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে মারা গেলেন। রুখসাত বললেন,‘এখনো বিশ্বাস হয় না আপু মারা গেছেন। মারা যাওয়ার আগে আপু অনেক কষ্ট পেয়েছেন। তাঁর তিন সন্তানের জন্য চিন্তা করতেন।’

গত ২০ এপ্রিল সাবরিনা খানম প্রথম আলোতে ‘আর কোনো টুকি যেন মা না হারায়’ শিরোনামের এক লেখায় লিখেছেন, ‘আমি রিফাত ও তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামের একসময়ের সহকর্মী। দুই পরিবারেই আমি মেয়ে হিসেবে গণ্য। সেই সুবাদে আড়াই বছরের রুদ্র ও ধ্রুব, আর এখন নবজাতক টুকির ‘ফুলা-মা’। তাই বাচ্চারা আজ মাতৃহারা হলেও মা ছাড়া নয়।...রিফাত হয়তো জানতেন, যে ওকে যেতে হবে। তাই ওর তিন সন্তানকে তিনজন মায়ের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন