রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৩৪৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প

বিজ্ঞাপন
default-image

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ হাজার ৪৪৯ কোটি ৫ লাখ টাকার ফিজিক্যাল প্রোটেকশন সিস্টেম (পিপিএস) প্রকল্প আজ মঙ্গলবার অনুমোদন করেছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, আজ ছয়টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এতে অনুমিত মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৪৪৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এবং বাকি ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে। অনুমোদিত ৬টি প্রকল্পের মধ্যে ৫টি নতুন এবং ১টি সংশোধিত প্রকল্প।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যান্ড ফিজিক্যাল প্রোটেকশন সিস্টেম সেল এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, আর্মি হেডকোয়ার্টার্স ও জিএস সেকশন (কো-অর্ডিনেশন) ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধাপে ধাপে সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ডিজাইন বেসিস থ্রেট (ডিবিটি) অথবা ডিবিটির বাইরে থেকে আসা ঝুঁকি মোকাবিলা করাও এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রাশিয়ান ফেডারেশনের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ও রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকলের অধীনে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাহী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসের (পিপিআর) সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন যাতে করে বড় ঠিকাদাররা বারবার সরকারি কাজ না পায়, বরং অন্য ঠিকাদারেরাও যাতে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিডিংয়ে অংশ নিতে পারে এবং সুস্থ প্রতিযোগিতা করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী জরুরি প্রয়োজন ছাড়া গ্রামীণ এলাকায় সেতু নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেন। কারণ, এই সেতুগুলো পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সতর্কতার সঙ্গে নতুন সড়কগুলো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কারণ, বর্তমান সরকার সব আন্তজেলা সড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করতে আগ্রহী।

অন্য যে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো ৩৬৬ দশমিক ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর (রাজারহাট)-মনিরামপুর-কেশবপুর-চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ৭১ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯১ দশমিক ৩৪ মিটার মুহুরী সেতু ও ৫০ দশমিক ১২ মিটার ফজিলাঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ৩৬১ দশমিক ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারের একতা বাজার থেকে বিএনএস শেখ হাসিনা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, প্রথম সংশোধিত ৭৯ দশমিক শূন্য ১ কোটি টাকা ব্যয়ে আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং ১২০ দশমিক ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিলেট জেলার সিলেট সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলায় দশগ্রাম, মাহতাবপুর ও রাজাপুর পরগনা বাজার এলাকা সুরমা নদীর উভয় তীরের ভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্প।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন