default-image

লম্বা রাস্তায় অপেক্ষমাণ দুটি ঘোড়ার গাড়ি। পাশে অনেকগুলো দোকান। দোকানগুলোর শেষ প্রান্তে একটি মসজিদ। আরেক পাশে বেশ কিছু পাকা বাড়িঘর। ব্রিটিশ লাইব্রেরির ওয়েবসাইটে পুরান ঢাকার চকবাজারের এই ছবিটি পাওয়া গেল। ১৯০৪ সালে ছবিটি তুলেছিলেন আলোকচিত্রী ফ্রিজ ক্যাপ। ওই বছর ঢাকার অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি তাঁর হাতে তোলা। মোগল আমলে স্থাপিত চকবাজার ব্রিটিশ আমলেও ঢাকার প্রধান কেন্দ্র ছিল। সম্ভবত সে কারণেই ১৯০৪ সালে ফ্রিজ ক্যাপ ছবিটি তোলেন। পুরান ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে লেখা মীজানুর রহমানের ঢাকা পুরান গ্রন্থে চকবাজারের বিশদ বর্ণনা আছে। তাতে বলা হয়েছে, মুসলমানরা বিশ্বের যেখানেই শাসনের ঝান্ডা উড়িয়েছে, সেখানেই গড়ে তুলেছে প্লাজা ধাঁচের চক। মোগল সেনাপতি মানসিংহ পূর্ববঙ্গে বিদ্রোহ দমন করতে
এসে ১৬০২ সালে দুর্গ স্থানান্তর করেন পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায়। আর মোগল দুর্গের পাশেই গড়ে ওঠে চকবাজার। তবে বাংলার নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁর হাত ধরে ১৭০২ সালে এটি আধুনিক বাজারে রূপান্তরিত হয়। এরপর ১৭৩৩-৩৪ সালে নওয়াব লুৎফুল্লাহ এই বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন। এ কারণে মোগল আমলে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র হয়ে ওঠে। এখানে পারসিক, গ্রিক, আরমেনিয়ান, ফিরিঙ্গি, কাশ্মীরিসহ নানা জাতের বণিক ভিড় করেন। মোগল আমলে শহরের সম্ভ্রান্ত ব৵ক্তিরা এই চকবাজারে কেনাকাটা করতে আসতেন। বিশেষ করে মুর্শিদ কুলি খাঁ যেদিন পরিবার নিয়ে আসতেন, সেদিন সাধারণ কারও বাজারের ত্রিসীমানায় যাওয়ার হুকুম ছিল না। আবার রাজকুমার বা রাজকুমারীরা এলে সহগামী নকিবরা আগমনবার্তা ঘোষণা করতেন।
উৎসুক জনতা রাস্তার দুই ধারে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁদের সম্মান দেখাতেন। চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতারিসহ মুখরোচক নানা খাবারের বর্ণনাও অাছে ঢাকা পুরান গ্রন্থে। ১৯৪৭-৪৮ সালে এই চকবাজার থেকে টাউন সার্ভিস বাস যেত সদরঘাটে। চকবাজারের মসজিদ ও পাইকারি বাজারটি টিকে থাকলেও
ছাপরা দোকানগুলো আজ আর নেই। সেখানে উঠেছে বহুতল ভবন। তবে চকের ইফতারি এখনো ঢাকাবাসীর প্রধান আকর্ষণ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0