সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) কামরুল আহসান। তিনি বলেন, রেলওয়েতে লোকোমোটিভ ও কোচের ব্যাপক স্বল্পতা আছে। প্রায় ৬৭ শতাংশ লোকোমোটিভ, ৪৭ শতাংশ যাত্রীবাহী কোচের অর্থনৈতিক জীবনকাল শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, রেলওয়ে খাতকে যুগোপযোগী করতে ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮৯টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮২টি প্রকল্প শেষ হয়েছে। তবে একটি বিশেষায়িত সংস্থা হওয়ায় রেলওয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায়ই দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা দেখা দেয়।

রেলে আধুনিক টিকিটিং সিস্টেম না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, উন্নত বিশ্বের মতো টিকিটিং সিস্টেম আধুনিকায়ন জরুরি। রেলওয়েতে জনবলসংকট প্রসঙ্গে সেমিনারে বলা হয়, ৪৭ হাজার ৬৩৭ জনবলের বিপরীতে রেলওয়েতে কর্মরত ২৪ হাজার ৪৫৯ জন। স্টেশনমাস্টার, লোকোমাস্টার, পোর্টার ও লেভেল ক্রসিং গেটম্যানের জনবলের সংকট আছে। জনবল ঘাটতির কারণে বর্তমানে ১২৩টি স্টেশন বন্ধ আছে। একই কারণে রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ, কোচ মেরামত ও ট্রেন পরিচালনা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে ১৩ হাজার ৯৮১ জনবল নিয়োগ করা হলেও রেলওয়েতে অধিক জনবল নিয়োগ করা প্রয়োজন।

রেলওয়ে নেটওয়ার্ক প্রসঙ্গে কামরুল আহসান বলেন, রেলওয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় গড়ে ওঠেনি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ব্রিটিশ-ভারত রেলওয়ের অংশ হিসেবে এটি নির্মিত হয়। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন রেল গন্তব্যে শুরুর স্টেশন থেকে গন্তব্য পর্যন্ত ঘুরপথে যেতে হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী রাজধানীমুখী রেলওয়ে নেটওয়ার্ক নির্মাণ, চট্টগ্রাম বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে দূরত্ব কমানো এবং বাইপাস নির্মাণের মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা জরুরি।

সেমিনারে রেলওয়ের ১৮টি চ্যালেঞ্জ, সমস্যা ও এর প্রতিকারের কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো গুরুত্বপূর্ণ করিডরগুলোতে সিঙ্গেল লাইন, সেতুর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে সীমিত সক্ষমতা, গেজ ইউনিফিকেশন, আন্তদেশীয় রেল যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা, রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবন্ধকতা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং রক্ষণাবেক্ষণ খাতে অর্থায়ন স্বল্পতা, অপ্রতুল প্রশিক্ষণ, লেভেল ক্রসিং গেট, রাজস্ব আয় বৃদ্ধিকরণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, আধুনিকায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রেল কারখানা আধুনিক করা এবং রেলওয়েতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।

বিশেষ অতিথি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ বলেন, রেলওয়ের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো এসেছে, সেগুলোর প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান আছে। কেবল প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানই রেলওয়েকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করে তুলতে পারে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন, রেলে যাত্রীসেবার মান ভালো নয়, রেলের সংখ্যা কম—প্রায়ই এগুলো শুনতে হয়। এ ছাড়া ডাবল লাইন নেই, রেল ইঞ্জিন ভালো না—এমন নানা সমস্যা আছে। রেলওয়েকে হতে হবে জনসাধারণের পরিবহন। কম পয়সায় যাতায়াতের জন্য রেলওয়েকে তৈরি করা প্রয়োজন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রেলসচিব মো. হুমায়ুন কবীর। এ সময় বক্তব্য দেন রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন