default-image

খুলনা নগরের জোড়া গেট এলাকায় রেলের প্রায় দুই একর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তার সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়সহ বেশ কিছু দোকানপাট। রেলওয়ের লোকজন ঘুষ নিয়ে বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, জোড়া গেট এলাকায় রেললাইনের দুই পাশের প্রায় দুই একর জমি রয়েছে। ১০ বছর ধরে এখানকার জমি দখল চলছে। তবে গত পাঁচ বছরে দখল ব্যাপক হারে বেড়েছে। ১০ বছর আগেও সেখানে তিন-চারটি চা-পান ও বিড়ি-সিগারেটের দোকান ছিল। এখন সেখানে ৫০টির মতো দোকান গড়ে উঠেছে। বছর তিনেক আগে জায়গা দখলে যোগ দেয় জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগ। তারা রেলের প্রায় দুই শতক জায়গা দখল করে সংগঠনটির কার্যালয় নির্মাণ করে। এর এক বছর পর একই পরিমাণ জায়গা দখল করে জাতীয় পার্টির ২১ নম্বর ওয়ার্ড শাখা কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন আগে প্রায় সমপরিমাণ জায়গা দখল করে মহানগর যুবলীগ ২১ নম্বর ওয়ার্ড শাখা কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। সর্বশেষ দুই মাস আগে প্রায় তিন শতক জায়গা দখল করে জাতীয়তাবাদী মোটর চালক শ্রমিক দলের সদর থানা কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, খুলনা-যশোর রেললাইন ঘেঁষে পূর্ব পাশে রয়েছে মহানগর যুবলীগ ২১ নম্বর ওয়ার্ড শাখা কার্যলায়। এর একটু উত্তর দিকে এগোলেই হাতের ডান পাশে জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগের কার্যালয়। এর ২০ গজ সামনে জাতীয় পার্টির ২১ নম্বর ওয়ার্ড শাখা কার্যালয়। জাতীয় পার্টির কার্যালয় থেকে ১০০ গজ সামনে এগোলে চোখে পড়ে জাতীয়তাবাদী মোটর চালক
শ্রমিক দলের সদর থানা কার্যালয়। ওই কার্যালয়গুলোর ফাঁকে ফাঁকে এবং সামনে-পেছনে রয়েছে চা-পান, বিড়ি-সিগারেটের দোকান ও হোটেল।
জায়গা দখলের ব্যাপারে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি দোকানদারেরা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চায়ের দোকানি বলেন, এখানে দোকান করার জন্য তাঁরা কাউকে চাঁদা দেন না। তবে রেলের লোকদের কিছু টাকা দিতে হয়। যুবলীগের কর্মী ও চায়ের দোকানদার মো. পাপ্পু বলেন, ‘আমরা দলের ছেলে-পুলে। আমাদের টাকাপয়সা দেওয়া লাগে না।’
৭ নম্বর কাস্টম ঘাট এলাকার বাসিন্দা হান্নান শেখ বলেন, দোকানদরেরা রেলের লোকদের ঘুষ দিয়ে এবং রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা তাঁদের খুঁটির জোরে এখানে জায়গা দখল করেছেন। আর এ কারণে রেলের লোকেরা দেখেও না দেখার ভান করছেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পার্টির তরফ থেকে এভাবে অফিস না করার জন্য বারবার বলা হচ্ছে। তার পরেও অনেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য অফিসগুলো করেছে। এ অনিয়মের বিরুদ্ধে আপনারা লিখতে পারেন।’
২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের কোনো কমিটি নেই। সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি দিয়ে চলছে সংগঠনটির কার্যক্রম। ওই কমিটির আহ্বায়ক মামুন কবির বলেন, ‘আমরা যে অফিস করেছি, তা রেলওয়েকে জানিয়েছি। তবে তারা এখনো আমাদের কিছু বলেনি।’ মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল গফফার বিশ্বাস বলেন, সবাই রেলের জায়গা দখল করছে। সেখানে তাঁদের একটি কার্যালয় করলে কী আর হবে। জাতীয়তাবাদী মোটর চালক শ্রমিক দল সদর থানার সভাপতি মনির খাঁ বলেন, ‘এখানে কেউ রেলের কাছ থেকে জায়গা ইজারা নেয়নি। আমরাও কোনো অনুমতি নিইনি।’
দখলকারীদের কাছ থেকে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ নেন এমন অভিযোগ অস্বীকার করে খুলনা রেলওয়ের কানুনগো মনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ মাসে উচ্ছেদ অভিযান চালাব। তখন ওই স্থানের সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন