default-image

অশোকে-পলাশে-শিমুলে আগুনরাঙা বসন্ত এল আবার। মন ভালো হওয়ার কথা। কিন্তু ‘আগুন’ শুনলেই এখন বুকের ভেতরটা আতঙ্ক ও বেদনায় মোচড় দিয়ে ওঠে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও দাউদাউ করে জ্বলছে বাস-ট্রাক। পুড়ে যাচ্ছে দোকানপাট, ঘরবাড়ি। আগুনের লেলিহান শিখা ঝলসে দিচ্ছে নিতান্তই খেটে খাওয়া শ্রমিক, সংসারের ঘানিটানা আটপৌরে চাকুরে, চোখে রঙিন ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ছুটে বেরোনো তরুণ, শিশিরধোয়া ফুলের মতো অবোধ শিশুর পবিত্র মুখমণ্ডল। বড় ভয়, তীব্র আতঙ্ক এখন আগুন নিয়ে। বসন্তেও তাই আগুনরাঙা ফুলের কথা বলতে এখন দ্বিধা এসে সামনে দাঁড়ায়।
প্রকৃতির নিয়মেই শীত ঋতু চলে গেল। আজ পয়লা বসন্ত। বরাবর রাজসিক বন্দনায় শুরু হয় ঋতুরাজের অভিষেক। মলিন কুয়াশার আঁচল সরিয়ে উজ্জ্বল সোনালি রোদে আকাশ ভরিয়ে তোলা বসন্তকে স্বাগত জানিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় জনজীবনে। এবার বসন্ত এল এক বিরুদ্ধ পরিবেশে। খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের শুরু থেকেই হরতাল-অবরোধে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। চলাচল ব্যাহত।
রবীন্দ্রনাথের গান দিয়েই বসন্তবরণের প্রসিদ্ধ রেওয়াজ। কত কত গান আছে তাঁর ঋতুরাজকে নিয়ে। কিন্তু সেসব ছাপিয়ে আজ বসন্ত দিনে মনে পড়ছে এই গানটির কথা, ‘রোদন-ভরা এ বসন্ত, সখী/ কখনো আসে নি বুঝি আগে...।’
তবু আশা থাকুক, প্রকৃতির কুজ্ঝটিকা যেমন করে ঘুচিয়ে দিয়েছে ঋতুরাজ, তেমনি করে অতি দ্রুত কেটে যাবে এই মানবসৃষ্ট তমসার ঘোর।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন