বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জ

default-image

বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা। গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য শুভ দেবের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন, সাংবাদিক মজিবুল হক, নারী সংহতির জেলা সম্পাদক পপি রানী সরকার, সংস্কৃতি সংগঠক জহিরুল ইসলাম, প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি রাসেল আদিত্য, গণসংহতি আন্দোলন বন্দর থানার আহ্বায়ক কাউসার হামিদ, এই বাঙলায় নাট্যদলের সংগঠক মিলন মাহমুদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ইলিয়াস জামান প্রমুখ।

তরিকুল সুজন বলেন, সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে। দিনের ভোট রাতের বেলায় নেওয়ার জন্য এই কালো আইন করা হয়েছিল। এখন সেই কালো আইন দিয়ে সরকার সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করতে চায়। সাংবাদিক রোজিনাকে ১০০ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের আইনে তথ্য চুরির অভিযোগে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশরা ক্ষমতায় টিকে থাকতে ওই কালো আইন তৈরি করেছিল। সেই আইনে রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।

আমির হোসেন বলেন, রোজিনা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একের পর এক নানা অনিয়ম-দুর্নীতির নিউজ করেছেন। কিন্তু দুর্নীতির নিউজের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় মানববন্ধন করে সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি। সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিল্লাল হোসেন, ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ ইমরান, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

রূপগঞ্জের মানববন্ধনে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর আবদুল আলীম সভাপতিত্ব করেন। প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মাসুদ করিম, সহসভাপতি আবুল কালাম শাকিল, সাধারণ সম্পাদক খলিল সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ বক্তব্য দেন। এ সময় তাঁরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোজিনা ইসলামকে মুক্তি না দিলে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বেলা ১১টায় আড়াইহাজার রিপোর্টার্স ক্লাবের মানববন্ধনে সভাপতি হাকিম ভূঁইয়া সভাপতিত্ব করেন। ক্লাবের উপদেষ্টা মাহাবুব মোল্লা, মনিরুজ্জামান মানিক, মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, মো. ফারুক, সাংবাদিক রাসেল মাহমুদ, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন। আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রলীগ, রক্ত ফাউন্ডেশনসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়।

গাজীপুর

default-image

রোজিনা ইসলাম জামিন ও মুক্তি পাবেন—এমন প্রত্যাশা করে সকাল থেকে সংবাদকর্মীরা গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের সামনে ভিড় করতে থাকেন। সকাল গড়িয়ে বিকেলে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁর জামিনের আদেশ শোনানোর দিন রোববার ধার্য করা হয়েছে। রোজিনার মুক্তির দাবিতে বিকেল সোয়া চারটার দিকে কাশিমপুর কারাগারের সামনে গাজীপুর প্রেসক্লাবের ব্যানারে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বক্তব্য দেন গাজীপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক গণমুখর সম্পাদক আমজাদ হোসেন, সাংবাদিক রাহিম সরকার, এম নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, রাজিবুল হাসান, মাহমুদা শিকদার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মানববন্ধন শেষে তাঁরা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করার ইচ্ছা জানিয়ে লিখিত আবেদন নিয়ে কারাফটকে যান। সেখানে দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীদের হাতে আবেদনটি তুলে দেন। কারারক্ষীরা জানান, এই আবেদন তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবেন।

সংবাদকর্মীরা সকাল থেকেই কারাগারের গেটে অবস্থান করায় দুপুরের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা স্থাপন করে। তবে তারা সংবাদকর্মীদের কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেয়নি। বিকেল পাঁচটার দিকে সংবাদকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের কর্মসূচি শেষ করেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হাসান বলেন, সংবাদকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের কর্মসূচি শেষ করেছেন। তারপরও কারাফটকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে সকালে টঙ্গী প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন হয়। টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হায়দার সরকারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক পুলক ঘটক, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সৈয়দ আতিক, সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার, শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লা, শাহাজাহান শোভন, বশির আহমেদসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অন্য সাংবাদিকেরা।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে প্রেসক্লাবে জড়ো হন বিভিন্ন মাধ্যমের সাংবাদিকেরা। প্রথমে প্রেসক্লাব হলরুমে প্রতিবাদ সভা হয়। এরপর সাংবাদিকেরা ব্যানার নিয়ে ক্লাবের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করেন।
বক্তারা বলেন, রোজিনা ইসলামের মতো একজন সাংবাদিককে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে হেনস্তা ও মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাটি নিন্দনীয়। তাঁরা এ ধরনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি রোজিনা ইসলামকে নির্যাতনে জড়িত কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

হায়দার সরকার বলেন, ‘বর্তমান সময়ে দুর্নীতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক রোজিনা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ সময় তাঁকে একটি কক্ষে আটক রাখা হয়েছে, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যা স্বাধীন দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের দুর্নীতিবিরোধী নীতি ও মূল্যবোধের ওপর চরম হুমকি বলে আমি মনে করি।’

মানিকগঞ্জ

দুপুরে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সিঙ্গাইর প্রেসক্লাব ও স্থানীয় সাপ্তাহিক ‘সময়ের সাথে’ পত্রিকার ব্যানারে মানববন্ধন করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকেরা। সাংবাদিক মো. কোহিনুর ইসলামের সভাপতিত্বে ও মাসুম বাদশার সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম, জয়নাল আবেদিন, রাকিবুল হাসান বিশ্বাস, মোহাম্মদ আলী, মশিউর রহমান, ইয়াকুব মোল্লা প্রমুখ। এ ছাড়া কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক সোহরাব হোসেন, আতাউর রহমান, মিজানুর রহমান, মোস্তাক আহম্মেদ, হাবিবুর রহমান, মিলন মাহমুদ, আলী হোসেন, শহিদুল ইসলাম, মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুসন্ধানী অনেকগুলো প্রতিবেদন করেছেন রোজিনা ইসলাম। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কতিপয় আমলা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁদের এই দুর্নীতি আড়াল করতেই রোজিনাকে নির্যাতন ও তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন