বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের অন্য তিনটি দাবি হলো—রোজিনাকে যাঁরা অন্যায়ভাবে আটকে রেখে নির্যাতন ও পেশাগত কাজে বাধা দিয়েছেন, তাঁদের বিচার করা; অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও সার্বিকভাবে সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বাধাস্বরূপ দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন ১৯২৩ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ বাতিল করা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।

বিবৃতিতে বলা হয়, কর্তব্যরত অবস্থায় অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনাকে গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। তিনি সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ পরদিন মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আদালতে নেয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। এই পুরো ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক ক্ষুব্ধ।

নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে বলা হয়, রোজিনার ‘অপরাধ’, তিনি ব্রিটিশ আমলের দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন ভঙ্গ করে অনুমতি ছাড়া দাপ্তরিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে রয়েছে তথ্য অধিকার আইন। এই আইন অনুসারে এসব দাপ্তরিক তথ্য পাওয়ার অধিকার কেবল সাংবাদিকের কেন, যেকোনো নাগরিকেরই রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রণালয় অধুনা আইনের পরিবর্তে ঔপনিবেশিক আইনকে প্রণিধানযোগ্য ভাবছে। এই আইনকে সাক্ষী মেনে কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা লিখিত হয়েছে। সরকার ও তার আমলাতন্ত্র গণতান্ত্রিক মানসিকতা ছুড়ে ফেলে ঔপনিবেশিক মানসিকতাকে শিরোধার্য করেছে।

নেটওয়ার্ক বলেছে, তারা জানে ও বোঝে, রোজিনার মূল ‘অপরাধ’ ভিন্ন। তিনি চলমান অতিমারির মধ্যে ধারাবাহিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে বেশ কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন। তাই তাঁকে ‘বাগে’ পেয়ে ‘শাস্তি’ দিচ্ছে উন্মোচিত মুখের ঐক্যবদ্ধ দল। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নির্বাহী ও আমলাতন্ত্রের মধ্যে ঐক্য লক্ষ করা যাচ্ছে। কারণ, স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মধ্যে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দুর্নীতিতেও উভয় পক্ষের যোগসাজশ রয়েছে। রোজিনার প্রতিবেদনে তা-ই উঠে এসেছে।

নেটওয়ার্ক মনে করে, রোজিনা কোনো অপরাধ করেননি। অপরাধ কারা করেছে, রোজিনা তা চিহ্নিত করেছেন তাঁর প্রতিবেদনে। উপরন্তু, সোমবারের ঘটনায় অপরাধ করেছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাঁরা অপরাধ করেছেন রোজিনাকে অবৈধভাবে আটকে রেখে। শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিয়ে। চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে। সর্বোপরি তাঁর পেশাগত কাজে বাধা দিয়ে।

নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে বলা হয়, রোজিনাকে অপরাধী সাজানোর পুরো আয়োজন ভয়াবহ ও প্রতিহিংসার দলিল। তাঁকে জোরপূর্বক আটকে রাখার ব্যাপারটি ফৌজদারি অপরাধ। তাঁর গ্রেপ্তার হওয়ার সচিত্র প্রতিবেদন থেকে সারা দেশের মানুষ যা বোঝার, তা বুঝেছে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে থাকা একজন সৈনিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবাজদের আস্ফালন হিসেবেই জনগণ একে পাঠ করেছে। সরকার তার একটা মন্ত্রণালয়ের জনবিরোধী তৎপরতা প্রকাশ্যে বিচার করে প্রমাণ দিক যে তারা গণতান্ত্রিক, তারা সুশাসনের পক্ষে আছে।

রোজিনা বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুরের মহিলা কারাগারে আছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাঁর জামিন আবেদনের ওপর অধিকতর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন