বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে শুরু থেকেই জাতিসংঘ বিরোধিতা করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ভাসানচর কতটা ঝুঁকিমুক্ত, রোহিঙ্গাদের অবাধে ভাসানচর থেকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত, তাদের স্বেচ্ছায় ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে কি না, এ বিষয়গুলো নিয়ে জাতিসংঘের প্রশ্ন ছিল।

সরকার কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কাজ শুরু করে অব্যাহত রাখার একপর্যায়ে সেখানে একটি কারিগরি দল পাঠায় জাতিসংঘ। কাছাকাছি সময়ে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), ঢাকায় পশ্চিমাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের পর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দুই সহকারী হাইকমিশনার ভাসানচর সফর করেন। এসব সফরের পর জাতিসংঘের কারিগরি দলসহ প্রতিনিধিদল ভাসানচর নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখায়।

এরপর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে ভাসানচরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কীভাবে কার্যক্রম চালাবে, সে বিষয়গুলো নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশ্ব সংস্থাটির কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। সেখানে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকার কর্মসূচি, যাতায়াতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের কাজের ধরন নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের শিক্ষাকার্যক্রম মিয়ানমারের ভাষায় এবং সে দেশের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অর্থাৎ রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে গিয়ে যাতে সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জীবিকার কর্মসূচির ধরনের বিষয়ে কর্মকর্তারা বলেছিলেন, শিক্ষার মতো কাজের ক্ষেত্রেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে মিয়ানমার, মানে রাখাইনের পরিস্থিতি। ভাসানচরে থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে জীবিকার জন্য তৈরি না করে তাদের আদিনিবাসের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়টিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ছয় দফায় মিয়ানমারের ১৮ হাজার ৫২১ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু, নারী ও পুরুষের সংখ্যা যথাক্রমে ৮ হাজার ৭৯০ জন, ৫ হাজার ৩১৯ জন ও ৪ হাজার ৪০৯ জন।

আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্পের পরিচালক কমোডর এম রাশেদ সাত্তার এর আগে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে গেলে এক লাখ রোহিঙ্গার বাকিদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার কাজ আবার শুরু হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন