default-image

প্রথম আলো: রাখাইনে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সাংবাদিকেরা ব্যবস্থাপনার একটি গ্রহণযোগ্য চিত্র দিচ্ছেন, কিন্তু জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রক্রিয়াটিকে সমর্থন করছে না। বিষয়টি আসলে কী?

রাহমান নাসির উদ্দিন: এর একটা মূল কারণ হলো এ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কোনোভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তাই আপত্তি তুলেছে। গত ১২ নভেম্বর ৫টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ভাসানচর পরিদর্শনের অনুমতি চেয়েছিল, সরকার দেয়নি। জাতিসংঘ কারিগরি মূল্যায়নের জন্য একটি টিম পাঠাতে চেয়েছিল, তারও অনুমতি দেওয়া হয়নি। সরকার অবশ্য বলছে, জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আবেদন করেনি। আরেকটি কারণ হলো, ভাসানচরের বয়স মাত্র ২০ বছর এবং এখানে কখনো কোনো জনবসতি ছিল না। এ রকম একটি জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর তাদের নতুন করে কোনো ঝুঁকিতে ফেলবে কি না, সেটা নিয়েও তাদের প্রশ্ন আছে। এটা অনস্বীকার্য যে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে সরকারের সদিচ্ছা প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিতর্ক এড়াতে পারলে আরও ভালো হতো।

কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা কষ্টকর জীবন যাপন করছে। সে তুলনায় ভাসানচরে আছে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধাসহ বাসযোগ্য পরিবেশ। তবু ভাসানচারে স্থানান্তর নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন কেন?

রাহমান নাসির উদ্দিন: বেশির ভাগ রোহিঙ্গার ধারণা, ভাসানচর একটি নিচু চর। বড় ধরনের বন্যা বা জলোচ্ছ্বাস হলে মানুষ ও ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নেবে। সেখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই। আবার মালয়েশিয়াফেরত ৩০৬ জন রোহিঙ্গা যারা ২০২০ সালের মে মাস থেকে ভাসানচরে বাস করছে, তারাও নেতিবাচক কথাবার্তা বলেছে। তাতে রোহিঙ্গারা নিরুৎসাহিত হয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের কাছে পরিবার, জ্ঞাতিগোষ্ঠী ও পাড়ার সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশ্রয়শিবিরে এ সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, স্থানান্তর এ সম্পর্ক ছিন্ন করবে। আবার কিছু কিছু এনজিও রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে যেতে নিরুৎসাহিতও করছে। কারণ, কক্সবাজারের আধুনিক জীবনযাপন ছেড়ে ভাসানচরে গিয়ে বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওর পক্ষে কাজ করা কঠিন।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। শিবিরগুলোতে প্রতিবছর ৬০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য দেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব কী হতে পারে?

রাহমান নাসির উদ্দিন: ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারকে এ দেশের জনগণের করের টাকা থেকে একটা বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন বছর এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। সামনে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। কারণ, একদিকে রোহিঙ্গার সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিমাণ কমে আসছে। এটি বিরাট অর্থনৈতিক চাপে ফেলবে। এ ছাড়া উখিয়া-টেকনাফসহ গোটা কক্সবাজারের পরিবেশ-প্রতিবেশ প্রায় ধ্বংসের মুখে, শ্রমবাজার দখল হওয়ার উপক্রম, গবাদিপশুর চারণক্ষেত্র প্রায় বিলীন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নটিও বড় হয়ে উঠছে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে এর নানা প্রভাব গোটা দেশের আর্থসামাজিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর পড়বে।

গণহত্যা, জাতিগত নিধন বা উদ্বাস্তুকরণে জড়িত থাকা সত্ত্বেও মিয়ানমারকে জবাবদিহির আওতায় আনা গেল না কেন? এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভূমিকা কি যথেষ্ট? আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায় মিয়ানমারকে কতটা দায়বদ্ধ করতে পারে?

রাহমান নাসির উদ্দিন: এর সহজ উত্তর হলো রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাশিয়া ও চীন প্রায় অন্ধভাবে মিয়ানমারকে সমর্থন করছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার সুবাদে তাদের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা আছে। এ কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ চেষ্টা করেও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকাও আমি একেবারেই যথেষ্ট বলে মনে করি না। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ব্যবস্থাপনায়, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় এবং ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় তারা বাংলাদেশকে যেভাবে চাপ দিয়েছে, এর সামান্যটুকুও তারা মিয়ানমারের ওপর প্রয়োগ করেনি। তারা বৈঠক করে, বিবৃতি দেয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য বিলাপ করে, কিন্তু মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কোনো চাপ প্রয়োগ করতে পারে না। আইসিজের রায় ইতিবাচক হলেও সেটি কত দিনে আসবে, তার নিশ্চয়তা নেই। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় সেটা খুব বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। তবে সেখানে মিয়ানমার গণহত্যাকারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণিত হলে তাদের সঙ্গে বহু দেশের বাণিজ্যিক, সামরিক এবং উন্নয়ন-সহযোগিতার সম্পর্ক নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।

রোহিঙ্গা সমস্যায় ভারতের কাছ থেকে শুধু মানবিক সহায়তা পাওয়া গেছে, জোরালো রাজনৈতিক সহযোগিতা নয়। ভারত জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। ভবিষ্যতে কি ভারতের কাছ থেকে আরও কার্যকর ভূমিকা আমরা আশা করতে পারি?

রাহমান নাসির উদ্দিন: পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি আবেগ নয়, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষ নিলে ভারতের লাভ নেই। বরং মিয়ানমারে ভারতের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ আছে। এ অঞ্চলে ভারতের বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে এবং চীনের একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার সামরিক ও কৌশলগত নীতি আছে। তাই অদূর ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের কার্যকর কোনো ভূমিকা আমরা আশা করতে পারি না। অন্তত আমি তো আশা দেখি না।

চীনের হস্তক্ষেপে অনেকটা তড়িঘড়ি করে ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রত্যাবাসন চুক্তি হলো। এখন চীনা মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে। কোনো অগ্রগতি কি আদৌ হচ্ছে?

রাহমান নাসির উদ্দিন: ৮ নভেম্বর মিয়ানমারে নির্বাচনের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চীন ভূমিকা রাখবে বলে যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা বাংলাদেশের তথ্যমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায়। তার কিছুই হয়নি। সে কারণে চীনের মধ্যস্থতার ওপর খুব নির্ভর করা যাবে না। ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট চীনের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফা প্রত্যাবাসনের যে চেষ্টা হয়েছিল, সেটিও ব্যর্থ হয়। চীন কি আসলেই কোনো দায়–দায়িত্ব নিয়েছে? মিয়ানমারকে কড়া ভাষায় দুটো কথা বলেছে? সার্বিকভাবে আসলে চীনকে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, রাখাইনে যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প অঞ্চল এবং গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে, তার সবকিছুতেই আছে চীনা বিনিয়োগ। কাজেই মিয়ানমারের বিপক্ষে গিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য চীন বাংলাদেশের জন্য কাজ করার কোনো যুক্তিসংগত কারণ দেখি না।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ থাকলেও দেশটির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রেখেছে, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য-সুবিধা দিচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলো কি ভাবছে যে মিয়ানমারের ওপর বাড়তি চাপ দেশটিকে আরও চীনমুখী করবে?

রাহমান নাসির উদ্দিন: আমি অংশত একমত। কেননা আপনি যখন কারও জন্য দরজা বন্ধ করে দেবেন, তখন সে যে দরজা খোলা পাবে, সেটা দিয়েই যাওয়া-আসা করবে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ থাকলেও শুধু চীনকে মাথায় রেখে দেশটির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখেনি। আন্তর্জাতিক পুঁজির যে নিজস্ব মুনাফামুখী চরিত্র, সেটাই এখানে ক্রিয়াশীল। রোহিঙ্গা ইস্যুতে এটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে মানবাধিকারের প্রশ্ন পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় কেবল একটা দেখানোপনা।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আসলে নৃতাত্ত্বিকভাবে কোন অঞ্চলের? মিয়ানমার কেন দাবি করছে যে তারা সে দেশের জাতিগোষ্ঠী নয়?

রাহমান নাসির উদ্দিন: রোহিঙ্গারা মূলত আরাকানের অধিবাসী। প্রায় এক হাজার বছর আগে থেকে রোহিঙ্গাদের পূর্বপুরুষেরা আরাকানি মুসলিম হিসেবে সেখানে বসবাস করে আসছে। ১৫ শতকে রোহাং আরাকানের রাজধানী হওয়ার পর থেকে তারা রোহাংয়ের অধিবাসী হিসেবে ক্রমান্বয়ে রোয়াইঙ্গা বা রোহিঙ্গা হিসেবে স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠীর নাম ধারণ করে। আরব, পারসিয়ান, পাঠান, মোগল, বাঙালি প্রভৃতি নৃগোষ্ঠীর সম্মিলনে রোহিঙ্গা একটি সংকর জাতি। ১৯৮২ সালে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট আখ্যান সাজিয়ে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়। তারা বলে, ১৮২৪ সালে ব্রিটিশ আরাকান অধিকারের পর রোহিঙ্গারা বেঙ্গল থেকে আরাকানে অভিবাসন করেছিল। মিয়ানমার বলল, ১৮২৪ সালের আগে বার্মায় যাদের আবাস ছিল, তারাই মিয়ানমারের নাগরিকত্ব পাবে। কিন্তু ইতিহাসের নানা সাক্ষ্য-দলিল-দস্তাবেজে এটি প্রমাণিত যে রোহিঙ্গারা প্রায় এক হাজার বছর ধরে আরাকানে বাস করছে। মিয়ানমার ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন দিয়ে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রবিহীন মানুষে পরিণত করেছে।

রোহিঙ্গারা কি তাদের ভাষা-সংস্কৃতি হারানোর ঝুঁকিতে আছে?

রাহমান নাসির উদ্দিন: অবশ্যই। ১৯৭৮ সালে এবং ১৯৯১-৯২ সালে যে রোহিঙ্গারা এসেছিল, আর ২০১৬ ও ২০১৭ সালে যারা এসেছে, তাদের মধ্যে ভাষার পার্থক্য সুস্পষ্ট। কোনো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সংস্পর্শে এলে উভয়ের নিয়মিত মিথস্ক্রিয়ায় ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি এমনিতেই সংকটে পড়ে।

বাংলাদেশ নিজে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় আছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গেও কাজ করে চলেছে।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় চীনের উদ্যোগে ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

রাহমান নাসির উদ্দিন: বাংলাদেশ অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জারি রেখেছে। কেননা আলোচনাগুলোকে বহুপক্ষীয় করতে গিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সংলাপ উপেক্ষা করলে মিয়ানমার বলত, আমরা সমাধান চাই, কিন্তু বাংলাদেশ চায় না। আবার শুধু মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা করলেও বাংলাদেশের পক্ষে সমাধান সম্ভব হবে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কথা দিয়ে কথা না রাখা মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বৈশিষ্ট্য। তবে আন্তর্জাতিক ফোরামে মিয়ানমারের পক্ষে থাকা চীন, রাশিয়া, ফিলিপাইন, লাওস, কম্বোডিয়া, বেলারুশ, জিম্বাবুয়ে ও ভিয়েতনাম—এই আটটি দেশের একটিকেও বাংলাদেশ গত তিন বছরে পক্ষে আনতে পারেনি। এমনকি ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটান—দক্ষিণ এশিয়ার এই চারটি দেশকেও নয়। বাংলাদেশের এ জায়গায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরালো করা দরকার। কারণ, আন্তর্জাতিক ফোরাম বাংলাদেশের পক্ষে যত বেশি দেশ থাকবে, বাংলাদেশ অবস্থান তত শক্ত থাকবে। আশার কথা হচ্ছে, গত ৩১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ওয়ার্কিং সেশনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, সেখানে নতুন করে নয়টি দেশ মিয়ানমারের পক্ষ ছেড়ে বিপক্ষে এসেছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপুল অংশ এখন মিয়ানমারের বাইরে। বড় অংশটি বাংলাদেশে। এই বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ কী?

রাহমান নাসির উদ্দিন: সত্যি বলতে কি, রোহিঙ্গাদের সুনিশ্চিত কোনো ভবিষ্যৎ আর আছে বলে আমার মনে হয় না। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের বাইরে যেসব রোহিঙ্গা আছে, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে, তারা খুবই সংগঠিত এবং তৎপর। বিশ্ব জনমত গঠনে এসব খুবই কার্যকর। কিন্তু যত দিন বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার নাগরিকত্ব, মর্যাদা এবং নিরাপত্তার সঙ্গে টেকসইভাবে ফিরিয়ে না নিচ্ছে, তত দিন এই জনগোষ্ঠীর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

প্রথম আলো: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

রাহমান নাসির উদ্দিন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন